ঢাকা ১০:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
কর্মহীন হাজারো শ্রমিক

দুই বছর পরও ধ্বংসস্তূপ গাজী টায়ার কারখানা

নিজস্ব প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ
  • সর্বশেষ আপডেট ১১:৪৮:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
  • / 58

দুই বছর পরও ধ্বংসস্তূপ গাজী টায়ার কারখানা

একসময় দেশের অন্যতম বৃহৎ টায়ার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ছিল নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অবস্থিত গাজী টায়ার ও পাইপ কারখানা। কিন্তু ২০২৪ সালের সহিংসতার পর হামলা, লুটপাট ও অগ্নিকাণ্ডে ধ্বংস হওয়া সেই কারখানা এখনও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। উৎপাদন বন্ধ থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন প্রায় সাড়ে ১২ হাজার শ্রমিক। তাদের অনেকেই জীবিকার তাগিদে কম বেতনে অন্য প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন।

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে অবস্থিত কারখানাটিতে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান ফটক বন্ধ। ভেতরে পোড়া ভবন, ভাঙাচোরা অবকাঠামো আর নীরবতা; সব মিলিয়ে যেন এক ধ্বংসস্তূপ। একসময় যেখানে হাজারো শ্রমিকের কর্মচাঞ্চল্যে মুখর ছিল পরিবেশ, সেখানে এখন নেই উৎপাদনের কোনো চিহ্ন।

কারখানার সাবেক শ্রমিক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জানান, অগ্নিকাণ্ডের পর দীর্ঘ সময় তিনি বেকার ছিলেন। পরে পাশের একটি কারখানায় কাজ পেলেও আগের তুলনায় প্রায় অর্ধেক বেতন পান। তার ভাষায়, গাজী টায়ারে দক্ষতার সঙ্গে টায়ার উৎপাদনের কাজে যুক্ত থাকলেও এখন সেই অভিজ্ঞতার যথাযথ মূল্য পাচ্ছেন না। একই পরিস্থিতিতে রয়েছেন আরও অনেক শ্রমিক। কেউ কেউ কাজের খোঁজে দেশের অন্য জেলায় চলে গেছেন।

কারখানার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা প্রহরী মোহাম্মদ রায়হান জানান, ২০২৪ সালের আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে কয়েক দফায় কারখানায় হামলা, ভাঙচুর ও ব্যাপক লুটপাটের ঘটনা ঘটে। প্রথম দফার লুটপাটের পর ভবনে আগুন লাগানো হয়। পরবর্তীতে আগুনে বহু মানুষ আটকা পড়ে নিহত হয়েছেন বলে দাবি ওঠে। পরে ভবনের ভেতর থেকে মানবদেহের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করা হয়। এসব ঘটনার পর থেকে মালিকপক্ষের অনুমতি ছাড়া কাউকে কারখানার ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না।

কারখানার বিভিন্ন ভবনে এখনও আগুনের ক্ষতচিহ্ন স্পষ্ট। বিশেষ করে পাঁচতলা ভবনের কলাম ফেটে গেছে এবং ওপরের তলার ছাদ ধসে নিচে পড়ে রয়েছে। বিশাল কারখানা এলাকা এখন প্রায় জনশূন্য।

স্থানীয়দের দাবি, কারখানাটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে টায়ারের বাজারেও। ব্যাটারিচালিত রিকশাচালক সুলতান মিয়া বলেন, আগে যে টায়ার ৪৮০ টাকায় কিনতেন, এখন সেটির জন্য ৫৬০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে। শুধু দামই বাড়েনি, টায়ারের স্থায়িত্বও আগের তুলনায় কমে গেছে। ফলে রিকশাচালকদের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

একসময় দেশের টায়ার শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা গাজী টায়ার কারখানাটি আজও উৎপাদনে ফিরতে পারেনি। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া এই শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরায় চালু হবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তায় রয়েছেন শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

কর্মহীন হাজারো শ্রমিক

দুই বছর পরও ধ্বংসস্তূপ গাজী টায়ার কারখানা

সর্বশেষ আপডেট ১১:৪৮:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

একসময় দেশের অন্যতম বৃহৎ টায়ার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ছিল নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অবস্থিত গাজী টায়ার ও পাইপ কারখানা। কিন্তু ২০২৪ সালের সহিংসতার পর হামলা, লুটপাট ও অগ্নিকাণ্ডে ধ্বংস হওয়া সেই কারখানা এখনও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। উৎপাদন বন্ধ থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন প্রায় সাড়ে ১২ হাজার শ্রমিক। তাদের অনেকেই জীবিকার তাগিদে কম বেতনে অন্য প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন।

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে অবস্থিত কারখানাটিতে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান ফটক বন্ধ। ভেতরে পোড়া ভবন, ভাঙাচোরা অবকাঠামো আর নীরবতা; সব মিলিয়ে যেন এক ধ্বংসস্তূপ। একসময় যেখানে হাজারো শ্রমিকের কর্মচাঞ্চল্যে মুখর ছিল পরিবেশ, সেখানে এখন নেই উৎপাদনের কোনো চিহ্ন।

কারখানার সাবেক শ্রমিক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জানান, অগ্নিকাণ্ডের পর দীর্ঘ সময় তিনি বেকার ছিলেন। পরে পাশের একটি কারখানায় কাজ পেলেও আগের তুলনায় প্রায় অর্ধেক বেতন পান। তার ভাষায়, গাজী টায়ারে দক্ষতার সঙ্গে টায়ার উৎপাদনের কাজে যুক্ত থাকলেও এখন সেই অভিজ্ঞতার যথাযথ মূল্য পাচ্ছেন না। একই পরিস্থিতিতে রয়েছেন আরও অনেক শ্রমিক। কেউ কেউ কাজের খোঁজে দেশের অন্য জেলায় চলে গেছেন।

কারখানার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা প্রহরী মোহাম্মদ রায়হান জানান, ২০২৪ সালের আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে কয়েক দফায় কারখানায় হামলা, ভাঙচুর ও ব্যাপক লুটপাটের ঘটনা ঘটে। প্রথম দফার লুটপাটের পর ভবনে আগুন লাগানো হয়। পরবর্তীতে আগুনে বহু মানুষ আটকা পড়ে নিহত হয়েছেন বলে দাবি ওঠে। পরে ভবনের ভেতর থেকে মানবদেহের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করা হয়। এসব ঘটনার পর থেকে মালিকপক্ষের অনুমতি ছাড়া কাউকে কারখানার ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না।

কারখানার বিভিন্ন ভবনে এখনও আগুনের ক্ষতচিহ্ন স্পষ্ট। বিশেষ করে পাঁচতলা ভবনের কলাম ফেটে গেছে এবং ওপরের তলার ছাদ ধসে নিচে পড়ে রয়েছে। বিশাল কারখানা এলাকা এখন প্রায় জনশূন্য।

স্থানীয়দের দাবি, কারখানাটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে টায়ারের বাজারেও। ব্যাটারিচালিত রিকশাচালক সুলতান মিয়া বলেন, আগে যে টায়ার ৪৮০ টাকায় কিনতেন, এখন সেটির জন্য ৫৬০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে। শুধু দামই বাড়েনি, টায়ারের স্থায়িত্বও আগের তুলনায় কমে গেছে। ফলে রিকশাচালকদের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

একসময় দেশের টায়ার শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা গাজী টায়ার কারখানাটি আজও উৎপাদনে ফিরতে পারেনি। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া এই শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরায় চালু হবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তায় রয়েছেন শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।