ঢাকা ০২:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি

দিল্লির যন্তর মন্তরে তেলাপোকার সমাবেশ

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৩:৩৩:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
  • / 70

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) সমাবেশের একাংশ

ভারতের নিটসহ (NEET) বিভিন্ন সর্বভারতীয় পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস কেলেঙ্কারির তীব্র প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে দিল্লির রাজনৈতিক অঙ্গন। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অবিলম্ব পদত্যাগের দাবিতে আজ শনিবার (৬ জুন) সকাল থেকেই ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির ঐতিহাসিক ধরণাস্থল দিল্লির যন্তর মন্তরে তেলাপোকার সমাবেশ এর ডাক দেয় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)।

দলটির হাজার হাজার সমর্থক ও সাধারণ যুবসমাজ সকাল থেকেই দলে দলে যন্তর মন্তরে জড়ো হতে শুরু করলে পুরো এলাকা এক অভূতপূর্ব ‘তেলাপোকা’ জোয়ারে ভেসে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন থেকে দেশের মাটিতে ফিরেই সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ সরাসরি সমাবেশস্থলে এসে পৌঁছান সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে।

এর আগে তেলাপোকাদের এই বিশাল সমাবেশটি আটকে দিতে দিল্লি হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছিল। মামলাকারীদের পক্ষ থেকে দিল্লির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, রেলস্টেশন, মেট্রোস্টেশন ও জাতীয় সড়কের প্রবেশপথগুলোতে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হলেও, শুক্রবার আদালত সেই জরুরি শুনানির আবেদনটি খারিজ করে দেয়। এরপর দিল্লি পুলিশ স্পষ্ট জানায় যে, শান্তিপূর্ণ এই সমাবেশে তাদের কোনো বাধা নেই।

সমাবেশে যোগ দিতে এসে সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দীপকে ভারতের সংবিধান রচয়িতা ভীমরাও আম্বেদকরের আত্মজীবনী হাতে নিয়ে মঞ্চে ওঠেন। সেখানে তরুণদের প্ল্যাকার্ড ও স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। বিক্ষোভকারীরা ‘ধর্মেন্দ্র প্রধান ইস্তফা দো’, ‘জয় ভীম’, ‘বন্দে মাতরম’ ও ‘গোদি মিডিয়া চোর হ্যায়’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই কর্মসূচি লাইভ সম্প্রচার করেন। মঞ্চ থেকে সংক্ষিপ্ত ভাষণে অভিজিৎ বলেন, দেশের যুবসমাজ আর ভয় পাবে না, তারা অধিকার আদায়ে লড়বে।

সমাবেশ চলাকালীন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টায় এক ব্যক্তিকে হাতে পোকা মারার স্প্রেসহ হাতেনাতে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেন বিক্ষোভকারীরা। অন্যদিকে একদল লোক ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দিতে দিতে যন্তর মন্তরে প্রবেশের চেষ্টা চালালে উপস্থিত পুলিশ বাহিনী দ্রুত তাদের সরিয়ে দেয়। আন্দোলনকারীদের জনসমর্থনের জোয়ার দেখে ক্ষমতাসীন দল বিজেপি এই আন্দোলনকে ‘পাকিস্তানপন্থী’ এবং মার্কিন ধনকুবের জর্জ সোরস এর মদদপুষ্ট বলে অভিহিত করেছে।

তবে সব ধরনের প্ররোচনা এড়িয়ে আন্দোলনকারীদের সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। আগামী ২৩ জুন দিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে সিজেপির দ্বিতীয় বড় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে বলে শনিবারের মঞ্চ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি

দিল্লির যন্তর মন্তরে তেলাপোকার সমাবেশ

সর্বশেষ আপডেট ০৩:৩৩:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬

ভারতের নিটসহ (NEET) বিভিন্ন সর্বভারতীয় পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস কেলেঙ্কারির তীব্র প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে দিল্লির রাজনৈতিক অঙ্গন। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অবিলম্ব পদত্যাগের দাবিতে আজ শনিবার (৬ জুন) সকাল থেকেই ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির ঐতিহাসিক ধরণাস্থল দিল্লির যন্তর মন্তরে তেলাপোকার সমাবেশ এর ডাক দেয় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)।

দলটির হাজার হাজার সমর্থক ও সাধারণ যুবসমাজ সকাল থেকেই দলে দলে যন্তর মন্তরে জড়ো হতে শুরু করলে পুরো এলাকা এক অভূতপূর্ব ‘তেলাপোকা’ জোয়ারে ভেসে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন থেকে দেশের মাটিতে ফিরেই সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ সরাসরি সমাবেশস্থলে এসে পৌঁছান সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে।

এর আগে তেলাপোকাদের এই বিশাল সমাবেশটি আটকে দিতে দিল্লি হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছিল। মামলাকারীদের পক্ষ থেকে দিল্লির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, রেলস্টেশন, মেট্রোস্টেশন ও জাতীয় সড়কের প্রবেশপথগুলোতে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হলেও, শুক্রবার আদালত সেই জরুরি শুনানির আবেদনটি খারিজ করে দেয়। এরপর দিল্লি পুলিশ স্পষ্ট জানায় যে, শান্তিপূর্ণ এই সমাবেশে তাদের কোনো বাধা নেই।

সমাবেশে যোগ দিতে এসে সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দীপকে ভারতের সংবিধান রচয়িতা ভীমরাও আম্বেদকরের আত্মজীবনী হাতে নিয়ে মঞ্চে ওঠেন। সেখানে তরুণদের প্ল্যাকার্ড ও স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। বিক্ষোভকারীরা ‘ধর্মেন্দ্র প্রধান ইস্তফা দো’, ‘জয় ভীম’, ‘বন্দে মাতরম’ ও ‘গোদি মিডিয়া চোর হ্যায়’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই কর্মসূচি লাইভ সম্প্রচার করেন। মঞ্চ থেকে সংক্ষিপ্ত ভাষণে অভিজিৎ বলেন, দেশের যুবসমাজ আর ভয় পাবে না, তারা অধিকার আদায়ে লড়বে।

সমাবেশ চলাকালীন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টায় এক ব্যক্তিকে হাতে পোকা মারার স্প্রেসহ হাতেনাতে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেন বিক্ষোভকারীরা। অন্যদিকে একদল লোক ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দিতে দিতে যন্তর মন্তরে প্রবেশের চেষ্টা চালালে উপস্থিত পুলিশ বাহিনী দ্রুত তাদের সরিয়ে দেয়। আন্দোলনকারীদের জনসমর্থনের জোয়ার দেখে ক্ষমতাসীন দল বিজেপি এই আন্দোলনকে ‘পাকিস্তানপন্থী’ এবং মার্কিন ধনকুবের জর্জ সোরস এর মদদপুষ্ট বলে অভিহিত করেছে।

তবে সব ধরনের প্ররোচনা এড়িয়ে আন্দোলনকারীদের সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। আগামী ২৩ জুন দিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে সিজেপির দ্বিতীয় বড় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে বলে শনিবারের মঞ্চ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়।