হামে শিশু মৃত্যু
ড. ইউনূসসহ ৫ জনের নামে মামলার আবেদন খারিজ করলেন আদালত
- সর্বশেষ আপডেট ০১:৪৭:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
- / 91
টিকা আমদানিতে ব্যর্থতা ও দেশজুড়ে হামে শিশু মৃত্যুর অভিযোগে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূর জাহান বেগমসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার আবেদনটি সরাসরি খারিজ করে দেওয়া হয়েছে।
আজ সোমবার (৮ জুন) দুপুরে বিজ্ঞ আদালতে এক দীর্ঘ শুনানি শেষে এই মামলা খারিজের আদেশ দেন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের বিচারক।
এর আগে আজ সকালের দিকে ঢাকা অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জসিতা ইসলামের আদালতে এই বহুল আলোচিত মামলার আবেদনটি করেছিলেন কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান ইকবাল।
উচ্চ আদালত কর্তৃক খারিজ হওয়া এই মামলার আবেদনে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূর জাহান বেগম ছাড়াও সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগের আরও ৩ জন শীর্ষ কর্মকর্তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। তারা হলেন:
- স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মো. সাইদুর রহমান।
- সাবেক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ সায়েদুর রহমান।
- স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর।
মামলার এজাহারে বাদী অভিযোগ করেছিলেন যে, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস আন্তর্জাতিকভাবে উচ্চশিক্ষিত এবং নোবেল বিজয়ী হলেও নিজের রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে চরম অবহেলা ও উদ্দেশ্যমূলক কর্মকাণ্ড প্রদর্শন করেছেন। আর তাঁর এই উদাসীনতার কারণেই এ দেশের শত শত অবুঝ শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং হাজার হাজার শিশুর জীবন মারাত্মকভাবে বিপন্নতার মুখে পড়েছে। অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, এই অবহেলা ও মৃত্যু কোনো সাধারণ ঘটনা নয়, বরং এটি সরাসরি হত্যাকাণ্ডের শামিল।
এজাহারে আরও বলা হয়, মামলার অন্য আসামিরা তৎকালীন সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও নীতিনির্ধারণী পদে থেকে নিজেদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলা করেছেন। তারা উদ্দেশ্যমূলকভাবে হামের মতো মারাত্মক রোগের ভ্যাকসিন যথাসময়ে বাংলাদেশে আমদানি না করে এক ধরনের শাস্তিযোগ্য ও অমানবিক অপরাধ করেছেন। এর ফলে রাষ্ট্রের নাগরিকদের সঙ্গে চরম প্রতারণা করা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করা হয়েছে বলেও মামলার আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল।
আবেদনে আন্তর্জাতিক উদাহরণ টেনে বলা হয়, বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় সব দেশেই শিশুদের জীবনঘাতী বিভিন্ন সংক্রামক রোগ থেকে রক্ষা করতে সরকারিভাবে এবং নিয়মিত টিকা দেওয়া হয়ে থাকে। এর মধ্যে হাম ও রুবেলার টিকা অন্যতম প্রধান। দীর্ঘদিন ধরে এই টিকার সফল প্রয়োগের ফলে বিশ্বব্যাপী হাম ও রুবেলায় মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।
বাদীর মূল অভিযোগ ছিল, বাংলাদেশ সরকার শুরু থেকেই আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনিসেফের (UNICEF) মাধ্যমে অত্যন্ত নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে হাম-রুবেলাসহ বিভিন্ন রোগের প্রয়োজনীয় টিকা আমদানি করে আসছিল। কিন্তু ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই ইউনিসেফের মাধ্যমে প্রচলিত ওই টিকা আমদানি প্রক্রিয়া আকস্মিক বন্ধ করে দেয়।
একই সঙ্গে তারা উন্মুক্ত দরপত্র বা ওপেন টেন্ডারের মাধ্যমে নতুন করে টিকা সংগ্রহের ধীরগতির উদ্যোগ নেয়। এই নতুন প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত দীর্ঘমেয়াদি হওয়ায় দেশজুড়ে ভ্যাকসিনের তীব্র সংকট ও মহামারি তৈরি হয়।
এদিকে, এই আইনি লড়াই ও বিতর্কের মাঝেই গত ৫ মে সাবেক সরকারের প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এক বিবৃতিতে জানিয়েছিলেন যে, ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ঠিক কী কারণে সময়মতো টিকা দেওয়া সম্ভব হয়নি তা সরকার গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখবে। তবে তিনি ব্যক্তিগতভাবে স্পষ্ট করে বলেন যে, দেশের কোমলমতি শিশুদের মৃত্যু ঘটাতে চায়—এরকম কোনো কুৎসিত বা খারাপ উদ্দেশ্য তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের অন্তত ছিল না।



































