ড্র করেও ফুটবল ইতিহাস গড়ল কানাডা
- সর্বশেষ আপডেট ১০:৩৭:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
- / 75
ফুটবল বিশ্বকাপের দীর্ঘ ৯৬ বছরের গৌরবময় ইতিহাসে এই প্রথমবার নিজেদের চেনা মাটিতে খেলতে নেমেছিল উত্তর আমেরিকার দেশ কানাডা। লক্ষ্য ছিল ঘরের মাঠের এই ঐতিহাসিক ম্যাচটিকে একটি দুর্দান্ত জয় দিয়ে স্মরণীয় করে রাখা। বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনার বিপক্ষে শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত সেই জয় অবশ্য অধরাই রয়ে গেছে কোচ জেসি মার্শের শিষ্যদের জন্য। ১-১ গোলের সমতা বা ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে কানাডাকে। তবে ম্যাচটিতে পূর্ণ ৩ পয়েন্ট না পেলেও, এই একটি মাত্র ম্যাচের লড়াকু ফল দিয়েই নিজেদের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ও ঐতিহাসিক সফলতা ছুঁয়ে ফেলল কানাডিয়ানরা।
চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে বিশ্বমঞ্চে কানাডার ফুটবলের অতীত খতিয়ান ও ইতিহাস ছিল চরম হতাশা, অমাবস্যা আর ব্যর্থতায় মোড়ানো। সুদীর্ঘ ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে প্রথমবার খেলতে এসে প্রতিপক্ষের জালে কোনো গোলই করতে পারেনি তারা; উল্টো গ্রুপ পর্বের ৩টি ম্যাচের সবকটিতে হেরে একদম শূন্য হাতে বিদায় নিয়েছিল দলটি।
এরপর দীর্ঘ ৩৬ বছরের এক মহাসময়ের অপেক্ষা শেষে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে পুনরায় ফিরেছিল কানাডা, তবে তাতেও তাদের ভাগ্যের চাকা বদলায়নি। সেবার অবশ্য তারকা ফুটবলার আলফোনসো ডেভিসের পা ধরে বিশ্বকাপে দেশের ইতিহাসের প্রথম গোলের দেখা পেয়েছিল তারা। কিন্তু বেলজিয়াম, ক্রোয়েশিয়া ও মরক্কোর মতো শক্তিশালী দলগুলোর কাছে একে একে হেরে তিন ম্যাচের তিনটিতেই পরাজয়ের স্বাদ পায় কানাডা। অর্থাৎ, ২০২৬ সালের এই আসরে নামার আগে বিশ্বকাপে কানাডার সামগ্রিক অতীত রেকর্ড ছিল—৬টি ম্যাচ খেলে ৬টিতেই হার।
সেই পুরনো আর দুঃস্বপ্নের ভরাডুবির ইতিহাস পেছনে ফেলে নিজেদের ঘরের মাঠে যখন কানাডা মাঠে নামল, তখন তাদের সামনে ছিল যেকোনো মূল্যে ইতিহাস বদলানোর এক কঠিন চ্যালেঞ্জ। ম্যাচের ২১তম মিনিটে বসনিয়ার ফরোয়ার্ড জোভো লুকিচের করা এক দুর্দান্ত হেডে যখন প্রথমার্ধেই ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে কানাডা, তখন গ্যালারিতে উপস্থিত হাজারো সমর্থকের মনে আবারও হারের পুরনো ভূত তাড়া করছিল।
তবে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধেই দেখা গেল সম্পূর্ণ এক বদলে যাওয়া ও লড়াকু কানাডাকে। ম্যাচের ৭৭তম মিনিটে পুরো টরন্টো স্টেডিয়ামকে আনন্দের জোয়ারে ভাসিয়ে দারুণ এক কোনাকুনি শটে গোল শোধ করেন দলের নির্ভরযোগ্য ফরোয়ার্ড কাইল লারিন। শেষ পর্যন্ত খেলার বাকি সময়ে আর কোনো গোল না হওয়ায় ১-১ গোলের ড্রয়ে ম্যাচ শেষ হয় এবং এর মাধ্যমেই বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো পয়েন্ট অর্জনের ঐতিহাসিক গৌরব ও মাইলফলক স্পর্শ করে কানাডা।
বিশ্বকাপের বৈশ্বিক মঞ্চে এর আগে খেলা টানা ৬টি ম্যাচের সবকটিতেই হারা একটি দলের জন্য, নিজেদের মাটিতে প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়ার পরও এমন লড়াকু ড্রয়ে টুর্নামেন্টের প্রথম মূল্যবান পয়েন্ট তুলে নেওয়াটা ট্রফি জয়ের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। আর ঠিক এই কারণেই, ম্যাচে জয় না পেলেও নিজেদের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে সফল, বর্ণিল ও স্মরণীয় রাতটি মনভরে উদযাপন করল কানাডা।



































