ঢাকা ০১:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডামুড্যায় অনুমোদনহীন অস্বাস্থ্যকর আইসক্রিম কারখানা

নিজস্ব প্রতিবেদক, শরীয়তপুর
  • সর্বশেষ আপডেট ০৭:১০:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 108

ডামুড্যায় অনুমোদনহীন অস্বাস্থ্যকর আইসক্রিম কারখানা

শরীয়তপুরের ডামুড্যায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে শিশুদের জন্য আইসক্রিম উৎপাদনের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার সৈয়দবস্তা এলাকায় ‘রাজ আইসক্রিম’ ও ‘রুচি সুপার আইসক্রিম’ নামে দুটি কারখানায় স্বাস্থ্যবিধি না মেনে আইসক্রিম উৎপাদন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব আইসক্রিম ডামুড্যা, ভেদরগঞ্জ ও সখিপুরের চরাঞ্চলের বিভিন্ন বাজারে বিক্রি হচ্ছে।

রোববার সরেজমিনে সৈয়দবস্তা এলাকায় গিয়ে কারখানা দুটির সন্ধান পাওয়া যায়। সেখানে আইসক্রিম উৎপাদন, কাঁচামাল সংরক্ষণ ও প্যাকেটজাত করার ক্ষেত্রে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।

‘রাজ আইসক্রিম’ কারখানায় ‘রাজ ক্ষীর মালাই’, ‘স্পেশাল অরেঞ্জ ললি’ ও ‘স্পেশাল ম্যাঙ্গো আইস বার’সহ বিভিন্ন ধরনের আইসক্রিম উৎপাদন করতে দেখা যায়। তবে এসব আইসক্রিমে কমলা বা আমের ব্যবহার দেখা যায়নি। কারখানায় আইসক্রিম তৈরিতে ঘনচিনি, বিভিন্ন রং ও রাসায়নিক উপাদান ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

কারখানায় থাকা ইসমাইল মোড়ল জানান, তার ছেলে মাসুম মোড়ল ব্যবসাটি পরিচালনা করেন। আইসক্রিম তৈরির সময় ঘনচিনি ও ‘আইপি’ নামের একটি রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করতে দেখেছেন বলেও জানান তিনি। তবে এসব উপাদান সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন না বলে দাবি করেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, আইসক্রিমের মোড়কে ব্যাচ নম্বর, উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ও ওজন লেখার জন্য জায়গা রাখা হলেও সেখানে এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মাসুম মোড়লের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

একই এলাকায় ‘রুচি সুপার আইসক্রিম’ নামের আরেকটি কারখানায় ‘রুচি সুপার ক্ষীর মালাই’ ও ‘অরেঞ্জ ললি’সহ বিভিন্ন ধরনের আইসক্রিম উৎপাদন করা হয়। কারখানায় কর্মরত এক শ্রমিক জানান, এর মালিক হাবিব শিকদার।

পরে হাবিব শিকদারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে আইসক্রিম উৎপাদন করে বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করছেন। তবে কারখানায় কোনো কেমিস্ট নেই এবং বিএসটিআইয়ের অনুমোদনও নেই বলে তিনি স্বীকার করেন।

স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক বলেন, প্রত্যন্ত এলাকার বিভিন্ন দোকানে এসব আইসক্রিম সহজেই পাওয়া যায়। কম দামে শিশুরা এসব আইসক্রিম কিনে খাচ্ছে। মান নিয়ন্ত্রণ ও স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ না করা হলে এগুলো শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান প্রয়োজন।

ডামুড্যা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সালাহউদ্দিন আইয়ুবী বলেন, শিশু খাদ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়মকানুন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন থাকা প্রয়োজন। কেউ আইন ও নিয়ম উপেক্ষা করে শিশু খাদ্য উৎপাদন করলে তার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ডামুড্যায় অনুমোদনহীন অস্বাস্থ্যকর আইসক্রিম কারখানা

সর্বশেষ আপডেট ০৭:১০:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শরীয়তপুরের ডামুড্যায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে শিশুদের জন্য আইসক্রিম উৎপাদনের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার সৈয়দবস্তা এলাকায় ‘রাজ আইসক্রিম’ ও ‘রুচি সুপার আইসক্রিম’ নামে দুটি কারখানায় স্বাস্থ্যবিধি না মেনে আইসক্রিম উৎপাদন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব আইসক্রিম ডামুড্যা, ভেদরগঞ্জ ও সখিপুরের চরাঞ্চলের বিভিন্ন বাজারে বিক্রি হচ্ছে।

রোববার সরেজমিনে সৈয়দবস্তা এলাকায় গিয়ে কারখানা দুটির সন্ধান পাওয়া যায়। সেখানে আইসক্রিম উৎপাদন, কাঁচামাল সংরক্ষণ ও প্যাকেটজাত করার ক্ষেত্রে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।

‘রাজ আইসক্রিম’ কারখানায় ‘রাজ ক্ষীর মালাই’, ‘স্পেশাল অরেঞ্জ ললি’ ও ‘স্পেশাল ম্যাঙ্গো আইস বার’সহ বিভিন্ন ধরনের আইসক্রিম উৎপাদন করতে দেখা যায়। তবে এসব আইসক্রিমে কমলা বা আমের ব্যবহার দেখা যায়নি। কারখানায় আইসক্রিম তৈরিতে ঘনচিনি, বিভিন্ন রং ও রাসায়নিক উপাদান ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

কারখানায় থাকা ইসমাইল মোড়ল জানান, তার ছেলে মাসুম মোড়ল ব্যবসাটি পরিচালনা করেন। আইসক্রিম তৈরির সময় ঘনচিনি ও ‘আইপি’ নামের একটি রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করতে দেখেছেন বলেও জানান তিনি। তবে এসব উপাদান সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন না বলে দাবি করেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, আইসক্রিমের মোড়কে ব্যাচ নম্বর, উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ও ওজন লেখার জন্য জায়গা রাখা হলেও সেখানে এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মাসুম মোড়লের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

একই এলাকায় ‘রুচি সুপার আইসক্রিম’ নামের আরেকটি কারখানায় ‘রুচি সুপার ক্ষীর মালাই’ ও ‘অরেঞ্জ ললি’সহ বিভিন্ন ধরনের আইসক্রিম উৎপাদন করা হয়। কারখানায় কর্মরত এক শ্রমিক জানান, এর মালিক হাবিব শিকদার।

পরে হাবিব শিকদারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে আইসক্রিম উৎপাদন করে বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করছেন। তবে কারখানায় কোনো কেমিস্ট নেই এবং বিএসটিআইয়ের অনুমোদনও নেই বলে তিনি স্বীকার করেন।

স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক বলেন, প্রত্যন্ত এলাকার বিভিন্ন দোকানে এসব আইসক্রিম সহজেই পাওয়া যায়। কম দামে শিশুরা এসব আইসক্রিম কিনে খাচ্ছে। মান নিয়ন্ত্রণ ও স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ না করা হলে এগুলো শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান প্রয়োজন।

ডামুড্যা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সালাহউদ্দিন আইয়ুবী বলেন, শিশু খাদ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়মকানুন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন থাকা প্রয়োজন। কেউ আইন ও নিয়ম উপেক্ষা করে শিশু খাদ্য উৎপাদন করলে তার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।