ঢাকা ০১:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডাকসুতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণের আহ্বান উদীচীর

সিনিয়র প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৬:২৪:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 93

ডাকসুতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণের আহ্বান উদীচীর

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালায় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও উপস্থাপনের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। একই সঙ্গে সংগ্রহশালাকে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বয়ান প্রতিষ্ঠার জায়গা না বানিয়ে তথ্য, দলিল ও গবেষণাভিত্তিক উন্মুক্ত শিক্ষাক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

সোমবার এক বিবৃতিতে উদীচীর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদ সেলিম ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সংগীতা ইমাম এ আহ্বান জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, সংস্কারের পর ডাকসু সংগ্রহশালা পুনরায় চালু হয়েছে। সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষের ইতিহাস, বিভিন্ন গণআন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং সাম্প্রতিক জুলাই অভ্যুত্থানের নানা আলোকচিত্র স্থান পেয়েছে। তবে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি নতুন করে সংযোজন এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভূমিকার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ আলোকচিত্রের উপস্থাপনায় পরিবর্তনের বিষয়টি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

উদীচীর নেতারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহশালা শুধু ছবি প্রদর্শনের স্থান নয়; এটি একটি জাতির রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক স্মৃতির গুরুত্বপূর্ণ দলিল। তাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানের সংগ্রহশালায় কোন ছবি রাখা হবে, কোন ঘটনাকে কীভাবে উপস্থাপন করা হবে এবং ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের কোন প্রেক্ষাপটে তুলে ধরা হবে—এসব সিদ্ধান্ত দায়িত্বশীলতার সঙ্গে নেওয়া প্রয়োজন।

তারা বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামের ইতিহাসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্ব, ভাষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং জনগণের দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের ধারাবাহিকতা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে পাকিস্তানি রাষ্ট্রব্যবস্থা, এর রাজনৈতিক চরিত্র এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার সঙ্গে এর সম্পর্কও ইতিহাসের অংশ। তাই কোনো ঐতিহাসিক ব্যক্তি বা ঘটনাকে বিচ্ছিন্নভাবে উপস্থাপন করা হলে ইতিহাসের পূর্ণাঙ্গ উপলব্ধি বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

বিবৃতিতে উদীচী বলেছে, ইতিহাস মুছে ফেলা নয়, বরং পূর্ণ প্রেক্ষাপটে ইতিহাস উপস্থাপন করাই একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব। বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ দলিল ও আলোকচিত্র যথাযথ মর্যাদা ও প্রাসঙ্গিকতার সঙ্গে সংরক্ষণ ও প্রদর্শন করা জরুরি। ইতিহাসের কোনো একটি অংশকে সামনে এনে অন্য গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় আড়াল করা হলে সংগ্রহশালার শিক্ষামূলক ও সাংস্কৃতিক ভূমিকা ব্যাহত হতে পারে।

সংগঠনটি ডাকসু কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, সংগ্রহশালায় প্রদর্শিত ঐতিহাসিক ছবি ও দলিলের সঠিক প্রেক্ষাপট ও তথ্যসূত্র নিশ্চিত করতে হবে। ভাষা আন্দোলন, গণআন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে উপস্থাপন করতে হবে। পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ স্বাধীনতাসংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ও ঘটনাবলির দলিল মর্যাদার সঙ্গে সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের ব্যবস্থা করতে হবে।

ভবিষ্যতে সংগ্রহশালার সংস্কার ও কিউরেশনের ক্ষেত্রে ইতিহাসবিদ, মুক্তিযুদ্ধের গবেষক, সংস্কৃতিকর্মী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের মতামত নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছে উদীচী। সংগঠনটির মতে, একটি জাতির ইতিহাস তার সংগ্রাম, অর্জন, বেদনা ও প্রতিরোধের সমন্বিত স্মৃতি। তাই খণ্ডিত উপস্থাপন বা ইতিহাসের পুনর্লিখন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ডাকসুতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণের আহ্বান উদীচীর

সর্বশেষ আপডেট ০৬:২৪:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালায় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও উপস্থাপনের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। একই সঙ্গে সংগ্রহশালাকে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বয়ান প্রতিষ্ঠার জায়গা না বানিয়ে তথ্য, দলিল ও গবেষণাভিত্তিক উন্মুক্ত শিক্ষাক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

সোমবার এক বিবৃতিতে উদীচীর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদ সেলিম ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সংগীতা ইমাম এ আহ্বান জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, সংস্কারের পর ডাকসু সংগ্রহশালা পুনরায় চালু হয়েছে। সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষের ইতিহাস, বিভিন্ন গণআন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং সাম্প্রতিক জুলাই অভ্যুত্থানের নানা আলোকচিত্র স্থান পেয়েছে। তবে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি নতুন করে সংযোজন এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভূমিকার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ আলোকচিত্রের উপস্থাপনায় পরিবর্তনের বিষয়টি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

উদীচীর নেতারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহশালা শুধু ছবি প্রদর্শনের স্থান নয়; এটি একটি জাতির রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক স্মৃতির গুরুত্বপূর্ণ দলিল। তাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানের সংগ্রহশালায় কোন ছবি রাখা হবে, কোন ঘটনাকে কীভাবে উপস্থাপন করা হবে এবং ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের কোন প্রেক্ষাপটে তুলে ধরা হবে—এসব সিদ্ধান্ত দায়িত্বশীলতার সঙ্গে নেওয়া প্রয়োজন।

তারা বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামের ইতিহাসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্ব, ভাষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং জনগণের দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের ধারাবাহিকতা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে পাকিস্তানি রাষ্ট্রব্যবস্থা, এর রাজনৈতিক চরিত্র এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার সঙ্গে এর সম্পর্কও ইতিহাসের অংশ। তাই কোনো ঐতিহাসিক ব্যক্তি বা ঘটনাকে বিচ্ছিন্নভাবে উপস্থাপন করা হলে ইতিহাসের পূর্ণাঙ্গ উপলব্ধি বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

বিবৃতিতে উদীচী বলেছে, ইতিহাস মুছে ফেলা নয়, বরং পূর্ণ প্রেক্ষাপটে ইতিহাস উপস্থাপন করাই একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব। বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ দলিল ও আলোকচিত্র যথাযথ মর্যাদা ও প্রাসঙ্গিকতার সঙ্গে সংরক্ষণ ও প্রদর্শন করা জরুরি। ইতিহাসের কোনো একটি অংশকে সামনে এনে অন্য গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় আড়াল করা হলে সংগ্রহশালার শিক্ষামূলক ও সাংস্কৃতিক ভূমিকা ব্যাহত হতে পারে।

সংগঠনটি ডাকসু কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, সংগ্রহশালায় প্রদর্শিত ঐতিহাসিক ছবি ও দলিলের সঠিক প্রেক্ষাপট ও তথ্যসূত্র নিশ্চিত করতে হবে। ভাষা আন্দোলন, গণআন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে উপস্থাপন করতে হবে। পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ স্বাধীনতাসংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ও ঘটনাবলির দলিল মর্যাদার সঙ্গে সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের ব্যবস্থা করতে হবে।

ভবিষ্যতে সংগ্রহশালার সংস্কার ও কিউরেশনের ক্ষেত্রে ইতিহাসবিদ, মুক্তিযুদ্ধের গবেষক, সংস্কৃতিকর্মী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের মতামত নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছে উদীচী। সংগঠনটির মতে, একটি জাতির ইতিহাস তার সংগ্রাম, অর্জন, বেদনা ও প্রতিরোধের সমন্বিত স্মৃতি। তাই খণ্ডিত উপস্থাপন বা ইতিহাসের পুনর্লিখন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।