ডলারকেও ধরেন স্যার, সেও দোষী: সোহেল রানা
- সর্বশেষ আপডেট ০১:১৯:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
- / 37
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর বর্বরোচিত হত্যা মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি আজ (৩জুন) অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ও ১৬ জনের সাক্ষ্য পড়ে শোনানো হয়। এ সময় স্বপ্না আক্তার নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে আদালতের কাছে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন। তবে তার স্বামী সোহেল রানা বিচারকের কাছে মাফ চেয়ে বলেন, “ডলারকে ধরেন স্যার, সেও তো দোষী।”
বর্তমানে প্রধান আসামি সোহেল রানা দাবি করছেন যে, মিরপুরের ‘ডলার’ নামের এক ব্যক্তি তাকে দুই লাখ টাকা দিয়েছিল এবং সেই-ই রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যা করেছে। সোহেল রানার দাবি অনুযায়ী, সে নিজে শুধু শিশুটির মরদেহ ‘দুই টুকরো’ করতে সহায়তা করেছে। তবে পুলিশ এই বক্তব্যকে সম্পূর্ণ সাজানো বলে নাকচ করে দিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, আইনি শাস্তি থেকে বাঁচতে এবং তদন্তের নজর অন্য দিকে ঘোরাতেই কৌশলে আসামির পক্ষ থেকে এমন ভিত্তিহীন গল্প ছড়ানো হচ্ছে।
এর আগে গত মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের ১৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্যগ্রহণ ও জবানবন্দি সফলভাবে শেষ হয়। সাক্ষীদের তালিকায় ছিলেন শিশু রামিসার বাবা ও মামলার বাদী আব্দুল হান্নান মোল্লা, মা পারভীন আক্তার, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। মূলত গতকাল আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় ভিকটিমের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি আকুতি জানিয়ে বলেন, অপরাধীদের এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক যাতে আর কোনো বাবা-মায়ের বুক এভাবে খালি না হয়।
গত ১৯ মে পল্লবীর সেকশন-১১ এর একটি ফ্ল্যাট থেকে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই নৃশংস ঘটনার পর দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় উঠলে মাত্র পাঁচ দিনে তদন্ত শেষ করে ২৪ মে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ। পরিশেষে আজ আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি শেষ করে আদালত আগামীকালের (বৃহস্পতিবার) দিন ধার্য করেছেন।





































