টাকা ছাপিয়ে পাঁচ ব্যাংককে ৫ হাজার কোটি ধার
- সর্বশেষ আপডেট ০১:২৭:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 138
দুর্দশাগ্রস্ত পাঁচ ব্যাংক একীভূত করে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়া শুরু হয়েছে। এজন্য টাকা ছাপিয়ে ব্যাংকগুলোকে ৫ হাজার কোটি টাকা ধার দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) থেকে ঘোষিত স্কিমের বাইরে ব্যক্তি আমানতকারীদের আবেদন নিয়ে অর্থ পরিশোধ করছে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক। এখন পর্যন্ত টাকা ফেরত পেতে বড় ধরনের কোনো জটিলতার খবর পাওয়া যায়নি।
ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে রোববার পর্যন্ত প্রায় ৭৫ হাজার গ্রাহক তাদের আমানত থেকে মোট ৩ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা উত্তোলনের জন্য আবেদন করেছেন। গ্রাহকদের অর্থ পরিশোধের সুবিধার্থে রোববার বাংলাদেশ ব্যাংক সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে ৫ হাজার কোটি টাকার বিশেষ ধার দিয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে না পারায় এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এসব ব্যাংককে বিভিন্ন সময়ে মোট ৪৭ হাজার ৮৪ কোটি টাকা বিশেষ ধার দেওয়া হয়েছিল। সুদসহ সেই অর্থের পরিমাণ বর্তমানে প্রায় ৫২ হাজার কোটি টাকা। আমানতকারীদের আস্থা ফেরাতে নতুন করে আরও ৫ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংক খাতের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে মূল্যস্ফীতিতে এর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনায় নিয়েই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, গ্রাহকদের আমানত ফেরত দিতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ পরিশোধ করা হবে। তাই গ্রাহকদের আতঙ্কিত বা তাড়াহুড়ো করার প্রয়োজন নেই।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দিয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকার বিপরীতে আমানতকারীদের শেয়ার দেওয়ার কথা রয়েছে।
এ ছাড়া আমানত বীমা তহবিল থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে আমানতকারীদের সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত দেওয়া হচ্ছে। বাকি অর্থ পর্যায়ক্রমে পরিশোধের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক একটি স্কিম ঘোষণা করেছে। ওই স্কিমের বাইরে ব্যক্তি আমানতকারীদের কাছ থেকেও আবেদন নিয়ে অর্থ ফেরত দেওয়া হচ্ছে।
এর আগে ২৫ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের টাকা ফেরতের ক্ষেত্রে কোনো ‘হেয়ারকাট’ থাকবে না। একই সঙ্গে ১ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যক্তি আমানতকারীরা প্রয়োজন অনুযায়ী আমানতের মূল অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন বলে জানানো হয়।
ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখা বা উপশাখায় আবেদন করার পর তা যাচাই করে পাওনা অর্থ পরিশোধ করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যক্তি আমানতকারীরা চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাবের অর্থ এবং মেয়াদি আমানতের মূল টাকা তুলতে পারবেন।
তবে এই সুবিধার আওতায় আমানতের বিপরীতে অর্জিত বা প্রাপ্য মুনাফা উত্তোলন করা যাবে না। কোনো গ্রাহক মেয়াদি আমানতের মূল টাকা তুলে নিলে সেটিকে ওই আমানতের পূর্ণ ও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হিসেবে গণ্য করা হবে। আর হিসাব চালু রাখলে চুক্তি অনুযায়ী প্রযোজ্য হারে মুনাফা পাওয়ার সুযোগ থাকবে।

































