ঢাকা ১০:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস সংরক্ষণের আহ্বান

সিনিয়র প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:৪২:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬
  • / 108

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস সংরক্ষণের আহ্বান

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ, আহত, সংগ্রামী নারী-পুরুষ এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়া মানুষের আত্মত্যাগ, সাহস ও অবদান যথাযথভাবে সংরক্ষণ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে রাষ্ট্র ও সমাজের সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শহীদ পরিবারের সদস্য, গবেষক ও বিশিষ্টজনেরা।

শনিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)-তে নারীগ্রন্থ প্রবর্তনার উদ্যোগে আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংগ্রামী নারী: অশ্রুর শক্তিতে নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এ আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সাবেক উপদেষ্টা শারমিন এস. মুরশিদ, নারীগ্রন্থ প্রবর্তনার সভাপতি ও সাবেক উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)-এর সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, শহীদ আনাসের মা সানজিদা খান, শহীদ সাংবাদিক তাহির জামান প্রিয়ের মা সামসি আরা জামান, শহীদ সৈকতের বোন সাবরিনা সেবন্তি, শহীদ মো. সোহেলের মা রহিমা বেগম, শহীদ হৃদয়ের বড় ভাই ইব্রাহিম এবং গণসংহতি আন্দোলনের তাসলিমা আখতার। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উবিনীগের পরিচালক সীমা দাস সীমু।

অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের পর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পাশাপাশি আন্দোলনে নিহত বিভিন্ন শহীদ এবং নারী ও শিশু শহীদদের ছবি প্রদর্শন করা হয়।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ গণআন্দোলন, যেখানে বৈষম্য, নিপীড়ন ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে অংশ নিয়েছিলেন। আন্দোলনে নিহত ও আহতদের আত্মত্যাগ এবং সংগ্রামের ইতিহাস সঠিকভাবে নথিবদ্ধ ও সংরক্ষণ করা জরুরি। একই সঙ্গে গবেষণাভিত্তিক তথ্যসংগ্রহ, মৌখিক ইতিহাস সংরক্ষণ এবং প্রামাণ্য দলিল তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।

নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে শহীদ হৃদয়ের বড় ভাই ইব্রাহিম বলেন, ছোট ভাইয়ের মরদেহ না পাওয়ার বেদনা আজও তাদের পরিবারকে তাড়িয়ে বেড়ায়। তিনি অভিযোগ করেন, ভাইকে হত্যার পর তার মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল।

শহীদ মাহমুদুর রহমান সৈকতের বোন সাবরিনা সেবন্তি বলেন, অর্থ দিয়ে একটি মানুষের জীবনের মূল্য নির্ধারণ করা যায় না। তিনি শহীদদের হত্যার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।

বক্তারা আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নারীরা শুধু রাজপথেই নয়, আন্দোলনের সংগঠন, সমন্বয়, আহতদের সহায়তা এবং তথ্য আদান-প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাদের অবদান ইতিহাসে যথাযথভাবে স্থান পাওয়া প্রয়োজন। সংগ্রামী নারীদের অভিজ্ঞতা ও স্মৃতিকে গবেষণা, প্রকাশনা এবং প্রামাণ্য নথির মাধ্যমে সংরক্ষণের আহ্বানও জানানো হয়।

ফরিদা আখতার বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কেবল রাজনৈতিক পরিবর্তনের ঘটনা নয়, এটি মানুষের মর্যাদা, ন্যায়বিচার ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। তাই এ আন্দোলনের প্রকৃত ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া সবার দায়িত্ব।

শারমিন এস. মুরশিদ জানান, নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ, আহত ও সংগ্রামী নারীদের নিয়ে ‘জুলাই যোদ্ধা’ শীর্ষক একটি গবেষণার প্রথম ধাপ সম্পন্ন হয়েছিল। তবে দ্বিতীয় ধাপ আর বাস্তবায়িত হয়নি। তিনি বলেন, আন্দোলনে সামনের সারিতে থাকা অনেক আহত নারী হাসপাতাল থেকে ফিরে জনসমক্ষে আর আসেননি, তাদের অভিজ্ঞতাও সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।

ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, রায়েরবাজারে একটি গণকবরে ১২৭ জনকে দাফনের তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া মাতুয়াইল, নরসিংদী ও সুন্দরবন এলাকায়ও গণকবরের সন্ধান মিলেছে বলে তিনি দাবি করেন।

অনুষ্ঠানে শহীদ পরিবারের সদস্য, আন্দোলনের অংশগ্রহণকারী, গবেষক, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস সংরক্ষণে ব্যক্তি, পরিবার, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং রাষ্ট্রকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে, যাতে এই আত্মত্যাগের ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নির্ভুলভাবে সংরক্ষিত থাকে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস সংরক্ষণের আহ্বান

সর্বশেষ আপডেট ০৮:৪২:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ, আহত, সংগ্রামী নারী-পুরুষ এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়া মানুষের আত্মত্যাগ, সাহস ও অবদান যথাযথভাবে সংরক্ষণ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে রাষ্ট্র ও সমাজের সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শহীদ পরিবারের সদস্য, গবেষক ও বিশিষ্টজনেরা।

শনিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)-তে নারীগ্রন্থ প্রবর্তনার উদ্যোগে আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংগ্রামী নারী: অশ্রুর শক্তিতে নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এ আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সাবেক উপদেষ্টা শারমিন এস. মুরশিদ, নারীগ্রন্থ প্রবর্তনার সভাপতি ও সাবেক উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)-এর সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, শহীদ আনাসের মা সানজিদা খান, শহীদ সাংবাদিক তাহির জামান প্রিয়ের মা সামসি আরা জামান, শহীদ সৈকতের বোন সাবরিনা সেবন্তি, শহীদ মো. সোহেলের মা রহিমা বেগম, শহীদ হৃদয়ের বড় ভাই ইব্রাহিম এবং গণসংহতি আন্দোলনের তাসলিমা আখতার। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উবিনীগের পরিচালক সীমা দাস সীমু।

অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের পর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পাশাপাশি আন্দোলনে নিহত বিভিন্ন শহীদ এবং নারী ও শিশু শহীদদের ছবি প্রদর্শন করা হয়।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ গণআন্দোলন, যেখানে বৈষম্য, নিপীড়ন ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে অংশ নিয়েছিলেন। আন্দোলনে নিহত ও আহতদের আত্মত্যাগ এবং সংগ্রামের ইতিহাস সঠিকভাবে নথিবদ্ধ ও সংরক্ষণ করা জরুরি। একই সঙ্গে গবেষণাভিত্তিক তথ্যসংগ্রহ, মৌখিক ইতিহাস সংরক্ষণ এবং প্রামাণ্য দলিল তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।

নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে শহীদ হৃদয়ের বড় ভাই ইব্রাহিম বলেন, ছোট ভাইয়ের মরদেহ না পাওয়ার বেদনা আজও তাদের পরিবারকে তাড়িয়ে বেড়ায়। তিনি অভিযোগ করেন, ভাইকে হত্যার পর তার মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল।

শহীদ মাহমুদুর রহমান সৈকতের বোন সাবরিনা সেবন্তি বলেন, অর্থ দিয়ে একটি মানুষের জীবনের মূল্য নির্ধারণ করা যায় না। তিনি শহীদদের হত্যার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।

বক্তারা আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নারীরা শুধু রাজপথেই নয়, আন্দোলনের সংগঠন, সমন্বয়, আহতদের সহায়তা এবং তথ্য আদান-প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাদের অবদান ইতিহাসে যথাযথভাবে স্থান পাওয়া প্রয়োজন। সংগ্রামী নারীদের অভিজ্ঞতা ও স্মৃতিকে গবেষণা, প্রকাশনা এবং প্রামাণ্য নথির মাধ্যমে সংরক্ষণের আহ্বানও জানানো হয়।

ফরিদা আখতার বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কেবল রাজনৈতিক পরিবর্তনের ঘটনা নয়, এটি মানুষের মর্যাদা, ন্যায়বিচার ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। তাই এ আন্দোলনের প্রকৃত ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া সবার দায়িত্ব।

শারমিন এস. মুরশিদ জানান, নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ, আহত ও সংগ্রামী নারীদের নিয়ে ‘জুলাই যোদ্ধা’ শীর্ষক একটি গবেষণার প্রথম ধাপ সম্পন্ন হয়েছিল। তবে দ্বিতীয় ধাপ আর বাস্তবায়িত হয়নি। তিনি বলেন, আন্দোলনে সামনের সারিতে থাকা অনেক আহত নারী হাসপাতাল থেকে ফিরে জনসমক্ষে আর আসেননি, তাদের অভিজ্ঞতাও সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।

ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, রায়েরবাজারে একটি গণকবরে ১২৭ জনকে দাফনের তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া মাতুয়াইল, নরসিংদী ও সুন্দরবন এলাকায়ও গণকবরের সন্ধান মিলেছে বলে তিনি দাবি করেন।

অনুষ্ঠানে শহীদ পরিবারের সদস্য, আন্দোলনের অংশগ্রহণকারী, গবেষক, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস সংরক্ষণে ব্যক্তি, পরিবার, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং রাষ্ট্রকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে, যাতে এই আত্মত্যাগের ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নির্ভুলভাবে সংরক্ষিত থাকে।