জমি দখল ঘিরে সালমানের স্টুডিওতে হামলা
- সর্বশেষ আপডেট ১১:২২:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 63
রাজধানীর ইসিবি চত্বরসংলগ্ন মানিকদী এলাকায় জমি দখল ও আবাসন ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শনিবার রাতে নিউগিনি প্রোপার্টিজের ভবনে গুলি চালিয়ে ঢুকে হামলাকারীরা স্টুডিওসহ ভবনের বিভিন্ন অংশে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।
মানিকদী এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, চারদিকে নির্মাণাধীন ভবন ও আবাসন প্রকল্পের সাইনবোর্ড। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব প্রকল্পকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে জমি দখল, হয়রানি ও প্রভাব বিস্তারের নানা ঘটনা ঘটছে। সেই বিরোধের ধারাবাহিকতায় নিউগিনি প্রোপার্টিজে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
ঘটনার নেপথ্য অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিউগিনি প্রোপার্টিজের মালিক নাজিম উদ্দিন ভূঁইয়া এবং হামলাকারীদের পক্ষের মতিউর রহমান ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা গোলাম মহিউদ্দিনকে ঘিরে বিরোধটি তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, আবাসন ব্যবসাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আবাসন প্রকল্পের নামে গ্রাহকদের কাছে প্লট বিক্রির পর অনেক ক্ষেত্রে সেখানে ভবন নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় রাস্তা দেওয়া হয় না। পরে বাধ্য হয়ে গ্রাহকদের কম দামে জমি বিক্রি করে দিতে হয়। একইভাবে স্থানীয়দের জমির চারপাশে বেড়া বা দেয়াল তুলে তাদের জমি বিক্রিতে বাধ্য করার অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগের বড় একটি অংশ নিউগিনি প্রোপার্টিজের মালিক নাজিম উদ্দিন ভূঁইয়াকে ঘিরে।
এই বিরোধের জেরেই শনিবার রাতে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। তবে হামলার বিষয়ে নাজিম উদ্দিন ভূঁইয়ার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার ব্যক্তিগত কার্যালয়ে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। কার্যালয় থেকে বের হয়ে এক ব্যক্তি নিজেকে তার ব্যক্তিগত সহকারী পরিচয় দিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে এবং ভেতরে প্রবেশ করতে বাধা দেন।
এদিকে হামলার ঘটনায় মামলা হওয়ার পর অভিযুক্তদের অনেকে এলাকা ছেড়েছেন বলে জানা গেছে। মামলার প্রধান আসামি শাহরিয়ার মাহমুদসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
ডিএমপির মিডিয়া বিভাগের উপকমিশনার আকতার হোসেন বলেন, নিউগিনি প্রোপার্টিজে হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে। দখলকে কেন্দ্র করে সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনায় ডিএমপি পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
হামলার দুই দিন পর ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ভাঙচুর হওয়া ভবনগুলোর নির্মাণকাজ অনেকটাই বন্ধ। নির্মাণশ্রমিকদের অনেকে এলাকা ছেড়ে গেছেন। আশপাশের ভবনগুলোর কাজও বন্ধ রয়েছে। যারা এখনো কাজ করছেন, তাদের মধ্যেও হামলার ঘটনায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।






























