ছবিতে উঠে এলো পাহাড়ের মানুষের জীবন-সংগ্রাম
- সর্বশেষ আপডেট ০৬:৫৭:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 169
পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের জীবন, জীবিকা, সংগ্রাম, অধিকার ও সম্ভাবনার নানা গল্প উঠে এসেছে একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে। এতে রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের মানুষের দৈনন্দিন জীবনের ৬৫টির বেশি আলোকচিত্র স্থান পেয়েছে।
মঙ্গলবার ঢাকার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালার ৫ নম্বর গ্যালারিতে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ) আয়োজিত ‘রাইজিং হিলস, বিওয়ান্ড দ্য ফ্রেম: এ ফটো ভয়েস’ শীর্ষক এ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।
‘পার্টনারশিপ ফর রেজিলিয়েন্ট লাইভলিহুডস ইন চিটাগাং হিল ট্র্যাক্টস’ (পিআরএলসি) প্রকল্পের আওতায় এসব আলোকচিত্র ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পটির মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর জীবনযাপন, জীবিকা, অধিকার ও পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে এমজেএফ নয়টি স্থানীয় সহযোগী সংগঠনের মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত ও হেড অব ডেলিগেশন মাইকেল মিলার বলেন, ছবিগুলো শুধু প্রকল্পের নথিপত্রের তথ্য নয়, বরং মানুষের জীবনে ঘটে যাওয়া বাস্তব পরিবর্তনের গল্প তুলে ধরছে। নতুন সুযোগ তৈরি হওয়া, নারী-পুরুষের টেকসই আয়ের পথ তৈরি এবং পরিবারগুলোর জীবনমানের উন্নতির পাশাপাশি নিজেদের অধিকার সম্পর্কে কমিউনিটির সচেতন হয়ে ওঠার চিত্রও এতে ফুটে উঠেছে।
তিনি বলেন, উন্নয়ন সহযোগিতার ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নের লক্ষ্য এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে মানুষ নিজের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি নিজের ভবিষ্যৎও নিজের মতো করে গড়ে নিতে পারে।
এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ জকরিয়া বলেন, পিআরএলসি প্রকল্পটি শুধু দারিদ্র্য কমানোর উদ্যোগ নয়; ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল জীবিকা গড়ে তুলতেও সহায়তা করছে। এ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। আয়মূলক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সিদ্ধান্ত গ্রহণেও তাদের অংশগ্রহণ বাড়ছে।
ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টিভেন রড্রিগেস বলেন, গল্প মানুষকে মানুষের সঙ্গে যুক্ত করে। প্রদর্শনীর ছবিগুলো পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের জীবন, সংস্কৃতি, আকাঙ্ক্ষা ও আশার বিষয়গুলো শক্তিশালীভাবে তুলে ধরেছে।
সিভিক এনগেজমেন্ট ফান্ডের পক্ষ থেকে ক্যাথারিনা কুনিগ বলেন, ছবি গল্প বলার একটি শক্তিশালী মাধ্যম। বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বর, অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্ব তুলে ধরতে আলোকচিত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ইউএন উইমেনের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ গীতাঞ্জলি সিং এ উদ্যোগের জন্য এমজেএফ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইউএনডিপিকে অভিনন্দন জানান। জীবিকা, সমন্বিত উন্নয়ন এবং তরুণ নারীদের নেতৃত্ব বিকাশে এ উদ্যোগ থেকে শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জীবিকার উন্নয়নের মাধ্যমে ২০ হাজার পরিবারকে চরম দারিদ্র্য থেকে বের করে আনার লক্ষ্য নিয়ে প্রকল্পটি কাজ করছে। তবে এমজেএফের অধিকারভিত্তিক কার্যক্রম শুধু অর্থনৈতিক সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; অধিকার সুরক্ষা এবং অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করাও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির অমীমাংসিত ধারাগুলো বাস্তবায়নে সরকারের অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান শাহীন আনাম। তার মতে, এতে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর আস্থা পুনর্গঠন হবে এবং তারা অঞ্চল ও দেশের উন্নয়নে আরও সক্রিয়ভাবে ভূমিকা রাখতে পারবে।
অনুষ্ঠানে এমজেএফের গভর্নিং বোর্ড সদস্য নিরূপা দেওয়ান ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। এ সময় দুটি কেস স্টোরি প্রকাশনা ও একটি ফটো ক্যাটালগ উন্মোচন করা হয়।
প্রদর্শনীটি ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।




































