চরফ্যাশনে স্কুলের জমি দখল করে ঘর নির্মাণ
- সর্বশেষ আপডেট ০৩:৩৩:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
- / 78
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার চর-কলমী ইউনিয়নে ৭২ নম্বর দক্ষিণ চরমঙ্গল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৩৪ শতাংশ জমি দখল করে অবৈধভাবে ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। বিদ্যালয়ের মাঠের একাংশ ভেকু দিয়ে মাটি ভরাট করে দ্রুত সেখানে টিনের ঘর নির্মাণের ঘটনায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মধ্যে।
এ ঘটনায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ উপজেলা প্রশাসন ও শশীভূষণ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।
বিদ্যালয় সূত্র ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চর-কলমী ইউনিয়নের চর মঙ্গল গ্রামের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে বিদ্যালয়টি ১৯৬৮ সালে ৬৬ শতাংশ জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়। দীর্ঘদিন ধরে জমিটি বিদ্যালয়ের দখল ও ব্যবহারে ছিল। ওই মাঠেই শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা, সমাবেশসহ বিভিন্ন কার্যক্রম করে আসছিল।
অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি ফখরুল নামে এক ব্যক্তির নেতৃত্বে ইব্রাহিম পাটওয়ারী, নাসিমসহ কয়েকজন ব্যক্তি কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই বিদ্যালয়ের জমির একটি অংশ দখল করেন। দিনের বেলায় ভেকু দিয়ে মাঠের একাংশ ভরাট করার পর রাতে সেখানে টিনের চালার ঘর নির্মাণ করা হয়। পরে ওই অংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের।
বিদ্যালয়ের মাঠের একটি বড় অংশ দখল হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির সদস্যরা। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, সকালের সমাবেশসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের জন্য জায়গার সংকট তৈরি হয়েছে।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুল লতিফ ও প্রধান শিক্ষক বলেন, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে কোনো ধরনের অবহিত না করেই জোরপূর্বক জমি দখল করা হয়েছে। এতে শিশুদের খেলাধুলার একমাত্র মাঠের বড় একটি অংশ ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দ্রুত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে বিদ্যালয়ের জমি উদ্ধারের দাবি জানান তারা।
অভিযোগের বিষয়ে ফখরুল ও ইব্রাহিম পাটওয়ারী বলেন, নাসিম নামে একজন ব্যক্তি ক্রয়সূত্রে ওই জমির মালিক বলে তারা জানেন। তাঁর পক্ষ থেকে জমিটি দখল করা হয়েছে এবং তারা শুধু দেখভাল করেছেন। তারা সরাসরি জমি দখলের সঙ্গে জড়িত নন বলেও দাবি করেন।
নাসিম বর্তমানে ঢাকায় কর্মরত রয়েছেন বলে জানা গেছে। তাঁর সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
চরফ্যাশন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়ের জমি কেউ দখল করে থাকলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর প্রশাসনের নজরে আসে। চরফ্যাশন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এমাদুল হোসেন বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি দখলের অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সরকারি সম্পত্তি বা বিদ্যালয়ের মাঠ দখল করার অধিকার কারও নেই।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পাশাপাশি দখলদারদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






























