ঢাকা ০৫:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চরফ্যাশনে ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে ছাত্রদলের বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক, চরফ্যাশন (ভোলা)
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:৩১:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
  • / 77

চরফ্যাশনে ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে ছাত্রদলের বিক্ষোভ

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর বঞ্চিত প্রার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এ অভিযোগে উপজেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চরফ্যাশন ফ্যাশন স্কয়ার থেকে মিছিলটি বের হয়ে উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় নেতাকর্মীরা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) পূর্ববর্তী ডিজিটাল শুমারি বা জরিপকাজে অভিজ্ঞতা এবং শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা থাকলেও চরফ্যাশনে তা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। অভিজ্ঞতা না থাকা এবং ট্যাব ব্যবহারে অদক্ষ কয়েকজনকে তালিকায় রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

বঞ্চিত কয়েকজন চাকরিপ্রার্থী দাবি করেন, ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহের কাজটি ডিজিটাল ট্যাব ও অনলাইন পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে। এ কারণে এ ধরনের কাজে অভিজ্ঞ ও দক্ষ প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু তাদের অভিযোগ, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার পরিবর্তে ব্যক্তিগত পছন্দ ও প্রভাবের ভিত্তিতে কিছু প্রার্থীকে নির্বাচিত করা হয়েছে।

নিয়োগের ফল প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ ও ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে নিয়োগের তালিকা প্রকাশ করে অনেকে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কেউ কেউ তালিকাটি বাতিল করে নতুন করে যাচাই-বাছাইয়ের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় শাহাদাত হোসেন সুজন অভিযোগ করেন, নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও তালিকায় রাখা হয়েছে। এতে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক কর্মসূচির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

স্থানীয় জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির শুমারি তালিকায় নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীদের অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

চাকরিপ্রার্থী সাইফুল ইসলাম রুবেল বলেন, আগে বিভিন্ন শুমারি কার্যক্রম ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। ডিগ্রি পাস করার পাশাপাশি পরীক্ষায় অংশ নিয়েও নির্বাচিত হতে পারেননি দাবি করে তিনি বলেন, দলীয় প্রভাবের কারণে যোগ্য প্রার্থীরা বাদ পড়েছেন।

উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী আরিয়ান আবিদ অভিযোগ করেন, মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ না দিয়ে অনিয়মের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের লোকজনকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এতে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আরিফ ফরাজী বলেন, ইউনিয়ন পর্যায় থেকে মেধাবী শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের নাম দেওয়া হলেও চূড়ান্ত তালিকায় তাদের অনেকের নাম নেই। এ কারণে নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করেছেন।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মামুন হোসেন। তিনি বলেন, “সম্পূর্ণ নিয়ম মেনে এবং নিয়োগ কমিটির সদস্যদের সমন্বয়ে স্বচ্ছতার সঙ্গে মেধার ভিত্তিতেই প্রার্থী নির্বাচন করা হয়েছে। এখানে ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়া বা অনিয়ম করার কোনো সুযোগ ছিল না।”

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল ও চাকরিপ্রত্যাশীরা নিয়োগ প্রক্রিয়া সাময়িক স্থগিত করে জেলা প্রশাসনের সরাসরি তত্ত্বাবধানে তালিকাটি পুনরায় যাচাই-বাছাইয়ের দাবি জানিয়েছেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

চরফ্যাশনে ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে ছাত্রদলের বিক্ষোভ

সর্বশেষ আপডেট ০৮:৩১:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর বঞ্চিত প্রার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এ অভিযোগে উপজেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চরফ্যাশন ফ্যাশন স্কয়ার থেকে মিছিলটি বের হয়ে উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় নেতাকর্মীরা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) পূর্ববর্তী ডিজিটাল শুমারি বা জরিপকাজে অভিজ্ঞতা এবং শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা থাকলেও চরফ্যাশনে তা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। অভিজ্ঞতা না থাকা এবং ট্যাব ব্যবহারে অদক্ষ কয়েকজনকে তালিকায় রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

বঞ্চিত কয়েকজন চাকরিপ্রার্থী দাবি করেন, ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহের কাজটি ডিজিটাল ট্যাব ও অনলাইন পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে। এ কারণে এ ধরনের কাজে অভিজ্ঞ ও দক্ষ প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু তাদের অভিযোগ, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার পরিবর্তে ব্যক্তিগত পছন্দ ও প্রভাবের ভিত্তিতে কিছু প্রার্থীকে নির্বাচিত করা হয়েছে।

নিয়োগের ফল প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ ও ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে নিয়োগের তালিকা প্রকাশ করে অনেকে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কেউ কেউ তালিকাটি বাতিল করে নতুন করে যাচাই-বাছাইয়ের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় শাহাদাত হোসেন সুজন অভিযোগ করেন, নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও তালিকায় রাখা হয়েছে। এতে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক কর্মসূচির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

স্থানীয় জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির শুমারি তালিকায় নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীদের অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

চাকরিপ্রার্থী সাইফুল ইসলাম রুবেল বলেন, আগে বিভিন্ন শুমারি কার্যক্রম ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। ডিগ্রি পাস করার পাশাপাশি পরীক্ষায় অংশ নিয়েও নির্বাচিত হতে পারেননি দাবি করে তিনি বলেন, দলীয় প্রভাবের কারণে যোগ্য প্রার্থীরা বাদ পড়েছেন।

উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী আরিয়ান আবিদ অভিযোগ করেন, মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ না দিয়ে অনিয়মের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের লোকজনকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এতে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আরিফ ফরাজী বলেন, ইউনিয়ন পর্যায় থেকে মেধাবী শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের নাম দেওয়া হলেও চূড়ান্ত তালিকায় তাদের অনেকের নাম নেই। এ কারণে নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করেছেন।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মামুন হোসেন। তিনি বলেন, “সম্পূর্ণ নিয়ম মেনে এবং নিয়োগ কমিটির সদস্যদের সমন্বয়ে স্বচ্ছতার সঙ্গে মেধার ভিত্তিতেই প্রার্থী নির্বাচন করা হয়েছে। এখানে ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়া বা অনিয়ম করার কোনো সুযোগ ছিল না।”

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল ও চাকরিপ্রত্যাশীরা নিয়োগ প্রক্রিয়া সাময়িক স্থগিত করে জেলা প্রশাসনের সরাসরি তত্ত্বাবধানে তালিকাটি পুনরায় যাচাই-বাছাইয়ের দাবি জানিয়েছেন।