ঢাকা ০৯:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গ্যাস-বিদ্যুতের যুগপৎ সংকটে দুর্ভোগ বাড়ছেই

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:৫৫:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
  • / 59

কক্সবাজারের মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি (এফএসআরইউ) টার্মিনালের একটি ইউনিট বন্ধ থাকায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ এখনও স্বাভাবিক হয়নি

দেশজুড়ে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের তেমন কোনো উন্নতি হয়নি। কক্সবাজারের মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি (এফএসআরইউ) টার্মিনালের একটি ইউনিট বন্ধ থাকায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ এখনও স্বাভাবিক হয়নি। এর প্রভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় রাজধানী ঢাকা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে লোডশেডিং অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে আবাসিক এলাকায় গ্যাসের চাপ কমে যাওয়া, শিল্প উৎপাদনে বিঘ্ন এবং সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে ভোগান্তি বাড়ছে।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে সরকার কাজ করছে এবং দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি)-এর তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় দেশের বিদ্যুতের চাহিদা ছিল প্রায় ১৫ হাজার ৯৫৯ মেগাওয়াট। সে সময় লোডশেডিং ছিল ২ হাজার ২৮৮ মেগাওয়াট। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। সোমবার মধ্যরাতে ১৬ হাজার ৬৩৫ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে লোডশেডিং বেড়ে দাঁড়ায় ৩ হাজার ২৩২ মেগাওয়াট, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ।

পিডিবির এক কর্মকর্তা জানান, কয়েক সপ্তাহ আগেও বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রতিদিন প্রায় ১০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস পাওয়া গেলেও বর্তমানে তা নেমে এসেছে প্রায় ৭০ কোটি ঘনফুটে। এতে কয়েক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে।

জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মহেশখালীর এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে গত ২১ জুলাই অগ্নিকাণ্ড ও কারিগরি ত্রুটির পর একটি টার্মিনাল বন্ধ রয়েছে। এর ফলে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস কম সরবরাহ হচ্ছে। বর্তমানে দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ প্রায় ২১৫ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছে, যা দৈনিক চাহিদার তুলনায় অনেক কম।

পেট্রোবাংলার একটি সূত্র জানায়, ক্ষতিগ্রস্ত টার্মিনালের বয়লার মেরামতের কাজ শেষ হয়েছে। খুব শিগগিরই পরীক্ষামূলকভাবে এটি চালু করা হতে পারে।

গ্যাস সংকটের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে শিল্প খাতে। গাজীপুর, সাভার, নারায়ণগঞ্জ ও ফতুল্লার গ্যাসনির্ভর শিল্পকারখানাগুলো প্রয়োজনীয় গ্যাসচাপ না পাওয়ায় উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। টেক্সটাইল, তৈরি পোশাক, স্পিনিং ও সিরামিক শিল্পের অনেক প্রতিষ্ঠান রাতের বেলায় উৎপাদন চালানোর চেষ্টা করছে। সময়মতো রপ্তানি আদেশ সরবরাহ করতে না পেরে অতিরিক্ত খরচে আকাশপথে পণ্য পাঠাতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছে শিল্প মালিকদের সংগঠনগুলো।

পরিবহন খাতেও এর প্রভাব স্পষ্ট। রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। অনেক চালক ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও প্রয়োজনীয় পরিমাণ গ্যাস পাচ্ছেন না। ফলে সড়কে সিএনজিচালিত যানবাহনের সংখ্যা কমে গেছে এবং যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েছে।

আবাসিক গ্রাহকদেরও দুর্ভোগ কম নয়। দিনের বড় একটি সময় গ্যাস না থাকায় অনেক পরিবার বিকল্প ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করছে। আবার লোডশেডিংয়ের কারণে বৈদ্যুতিক চুলাও নিয়মিত ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ফলে গ্যাস ও বিদ্যুতের যুগপৎ সংকট জনজীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে।

চট্টগ্রামেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ পাওয়ায় নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ঘন ঘন লোডশেডিং হচ্ছে। বাসাবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, অফিস ও আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। পিডিবি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিদ্যুতের ঘাটতি কমলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। তবে কবে নাগাদ সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময় জানাতে পারেননি তারা।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

গ্যাস-বিদ্যুতের যুগপৎ সংকটে দুর্ভোগ বাড়ছেই

সর্বশেষ আপডেট ১২:৫৫:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

দেশজুড়ে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের তেমন কোনো উন্নতি হয়নি। কক্সবাজারের মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি (এফএসআরইউ) টার্মিনালের একটি ইউনিট বন্ধ থাকায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ এখনও স্বাভাবিক হয়নি। এর প্রভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় রাজধানী ঢাকা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে লোডশেডিং অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে আবাসিক এলাকায় গ্যাসের চাপ কমে যাওয়া, শিল্প উৎপাদনে বিঘ্ন এবং সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে ভোগান্তি বাড়ছে।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে সরকার কাজ করছে এবং দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি)-এর তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় দেশের বিদ্যুতের চাহিদা ছিল প্রায় ১৫ হাজার ৯৫৯ মেগাওয়াট। সে সময় লোডশেডিং ছিল ২ হাজার ২৮৮ মেগাওয়াট। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। সোমবার মধ্যরাতে ১৬ হাজার ৬৩৫ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে লোডশেডিং বেড়ে দাঁড়ায় ৩ হাজার ২৩২ মেগাওয়াট, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ।

পিডিবির এক কর্মকর্তা জানান, কয়েক সপ্তাহ আগেও বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রতিদিন প্রায় ১০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস পাওয়া গেলেও বর্তমানে তা নেমে এসেছে প্রায় ৭০ কোটি ঘনফুটে। এতে কয়েক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে।

জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মহেশখালীর এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে গত ২১ জুলাই অগ্নিকাণ্ড ও কারিগরি ত্রুটির পর একটি টার্মিনাল বন্ধ রয়েছে। এর ফলে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস কম সরবরাহ হচ্ছে। বর্তমানে দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ প্রায় ২১৫ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছে, যা দৈনিক চাহিদার তুলনায় অনেক কম।

পেট্রোবাংলার একটি সূত্র জানায়, ক্ষতিগ্রস্ত টার্মিনালের বয়লার মেরামতের কাজ শেষ হয়েছে। খুব শিগগিরই পরীক্ষামূলকভাবে এটি চালু করা হতে পারে।

গ্যাস সংকটের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে শিল্প খাতে। গাজীপুর, সাভার, নারায়ণগঞ্জ ও ফতুল্লার গ্যাসনির্ভর শিল্পকারখানাগুলো প্রয়োজনীয় গ্যাসচাপ না পাওয়ায় উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। টেক্সটাইল, তৈরি পোশাক, স্পিনিং ও সিরামিক শিল্পের অনেক প্রতিষ্ঠান রাতের বেলায় উৎপাদন চালানোর চেষ্টা করছে। সময়মতো রপ্তানি আদেশ সরবরাহ করতে না পেরে অতিরিক্ত খরচে আকাশপথে পণ্য পাঠাতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছে শিল্প মালিকদের সংগঠনগুলো।

পরিবহন খাতেও এর প্রভাব স্পষ্ট। রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। অনেক চালক ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও প্রয়োজনীয় পরিমাণ গ্যাস পাচ্ছেন না। ফলে সড়কে সিএনজিচালিত যানবাহনের সংখ্যা কমে গেছে এবং যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েছে।

আবাসিক গ্রাহকদেরও দুর্ভোগ কম নয়। দিনের বড় একটি সময় গ্যাস না থাকায় অনেক পরিবার বিকল্প ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করছে। আবার লোডশেডিংয়ের কারণে বৈদ্যুতিক চুলাও নিয়মিত ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ফলে গ্যাস ও বিদ্যুতের যুগপৎ সংকট জনজীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে।

চট্টগ্রামেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ পাওয়ায় নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ঘন ঘন লোডশেডিং হচ্ছে। বাসাবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, অফিস ও আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। পিডিবি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিদ্যুতের ঘাটতি কমলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। তবে কবে নাগাদ সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময় জানাতে পারেননি তারা।