ঢাকা ০২:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গোপালগঞ্জে গাছে বেঁধে নির্যাতনের পর স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যার চেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক, গোপালগঞ্জ
  • সর্বশেষ আপডেট ০৫:০৩:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬
  • / 191

গোপালগঞ্জে গাছে বেঁধে নির্যাতনের পর স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যার চেষ্টা

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় এক স্কুলছাত্রী ও এক তরুণকে গাছের সঙ্গে বেঁধে প্রকাশ্যে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অপমান ও মানসিক আঘাতে ওই ছাত্রী বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে বলে জানিয়েছে তার পরিবার।

জানা গেছে, গত ২৮ জুলাই দুপুরে উপজেলার একটি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ছাত্রী স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাতে নির্যাতনের ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনায় আসে।

স্থানীয় সূত্র ও ভাইরাল ভিডিও থেকে জানা যায়, ঘটনার দিন ওই ছাত্রীকে বিদ্যালয়ের বাইরে থেকে এবং এক তরুণকে তার বাড়ি থেকে ডেকে বিদ্যালয়ে আনা হয়। আগের দিন তাদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখা গেছে—এমন অভিযোগ তুলে কয়েকজন তাদের বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের একটি দেবদারু গাছের সঙ্গে গামছা দিয়ে বেঁধে রাখে।

এ সময় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে তাদের শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা করা হয়। উপস্থিত কয়েকজন পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করে পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।

এ ঘটনায় নয়ন বাড়ৈ, জয় শিকদার, মিশন রায়সহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। তবে নয়ন বাড়ৈ দাবি করেছেন, তিনি শুধু দুজনকে বিদ্যালয়ে এনে অভিভাবকদের কাছে তুলে দিয়েছিলেন। গাছে বেঁধে নির্যাতনের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।

ভুক্তভোগী ছাত্রীর পরিবারের দাবি, ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক অপমান ও মানসিক চাপে সে বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। পরে তাকে স্থানীয় উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হলে অবস্থার অবনতি হওয়ায় গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে সেখানে তার চিকিৎসা চলছে।

ঘটনার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইন্দ্রজিত সরকার বলেন, ঘটনার দিন তিনি বিদ্যালয়ে ছিলেন না। বিষয়টি শুনেছেন এবং পরিচালনা কমিটির সভাপতি ফিরে এলে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

গোপালগঞ্জে গাছে বেঁধে নির্যাতনের পর স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যার চেষ্টা

সর্বশেষ আপডেট ০৫:০৩:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় এক স্কুলছাত্রী ও এক তরুণকে গাছের সঙ্গে বেঁধে প্রকাশ্যে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অপমান ও মানসিক আঘাতে ওই ছাত্রী বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে বলে জানিয়েছে তার পরিবার।

জানা গেছে, গত ২৮ জুলাই দুপুরে উপজেলার একটি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ছাত্রী স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাতে নির্যাতনের ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনায় আসে।

স্থানীয় সূত্র ও ভাইরাল ভিডিও থেকে জানা যায়, ঘটনার দিন ওই ছাত্রীকে বিদ্যালয়ের বাইরে থেকে এবং এক তরুণকে তার বাড়ি থেকে ডেকে বিদ্যালয়ে আনা হয়। আগের দিন তাদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখা গেছে—এমন অভিযোগ তুলে কয়েকজন তাদের বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের একটি দেবদারু গাছের সঙ্গে গামছা দিয়ে বেঁধে রাখে।

এ সময় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে তাদের শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা করা হয়। উপস্থিত কয়েকজন পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করে পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।

এ ঘটনায় নয়ন বাড়ৈ, জয় শিকদার, মিশন রায়সহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। তবে নয়ন বাড়ৈ দাবি করেছেন, তিনি শুধু দুজনকে বিদ্যালয়ে এনে অভিভাবকদের কাছে তুলে দিয়েছিলেন। গাছে বেঁধে নির্যাতনের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।

ভুক্তভোগী ছাত্রীর পরিবারের দাবি, ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক অপমান ও মানসিক চাপে সে বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। পরে তাকে স্থানীয় উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হলে অবস্থার অবনতি হওয়ায় গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে সেখানে তার চিকিৎসা চলছে।

ঘটনার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইন্দ্রজিত সরকার বলেন, ঘটনার দিন তিনি বিদ্যালয়ে ছিলেন না। বিষয়টি শুনেছেন এবং পরিচালনা কমিটির সভাপতি ফিরে এলে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।