গোপনে ছড়াচ্ছে ইয়াবা, উদ্বিগ্ন নালিতাবাড়ী
- সর্বশেষ আপডেট ১২:৪০:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
- / 340
শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে ইয়াবার বিস্তার নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা, অভিভাবক ও সচেতন মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গোপনে ইয়াবা কেনাবেচা ও সেবন চলছে। এতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে তরুণ ও যুবসমাজ।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাদকসংক্রান্ত তথ্য জানা থাকলেও অনেকে প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না। মাদক বিক্রেতা বা সেবনকারীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে চাপ কিংবা হয়রানির শিকার হওয়ার আশঙ্কায় অনেকে নীরব থাকছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে কথা বললে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়েও দুশ্চিন্তায় পড়তে হয়। ফলে বিষয়টি জানা থাকলেও অনেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তথ্য দিতে সাহস পান না।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, মাদক কারবারে জড়িত একটি চক্র অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে বেকার যুবকদের বাহক হিসেবে ব্যবহার করছে। এমনকি অপ্রাপ্তবয়স্কদেরও এ কাজে ব্যবহারের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে বলে দাবি তাদের। তবে এ চক্রে কারা জড়িত এবং কীভাবে মাদক সরবরাহ করা হচ্ছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য দিতে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের দাবি, ছোট ছোট প্যাকেটে ইয়াবা বিভিন্ন এলাকা ও গ্রাম পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। মোবাইল ব্যাংকিংসহ বিভিন্ন মাধ্যমে লেনদেন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে মাদক কারবার চালানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে মাদকের বিস্তার শহরকেন্দ্রিক এলাকা ছাড়িয়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
মাদকের সহজলভ্যতার অভিযোগে সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা। তাদের আশঙ্কা, তরুণদের একটি অংশ মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়লে এর নেতিবাচক প্রভাব পরিবার ও সমাজে পড়তে পারে। কয়েকজন অভিভাবক জানান, সন্তানদের চলাফেরা ও বন্ধুত্বের বিষয়ে আগের তুলনায় বেশি সতর্ক থাকতে হচ্ছে।
সচেতন মহলের মতে, মাদক নিয়ন্ত্রণে শুধু অভিযান পরিচালনা যথেষ্ট নয়। মাদকের উৎস ও স্থানীয় পর্যায়ের কারবারিদের শনাক্ত করার পাশাপাশি তরুণদের কর্মসংস্থান, খেলাধুলা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নিতে হবে। উপজেলা মাদক প্রতিরোধ কমিটিকে সক্রিয় করার পাশাপাশি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়েও মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়রা উপজেলার বিভিন্ন প্রবেশপথ ও সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী সিসিটিভি স্থাপন ও গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদারের কথাও বলেছেন তারা। তাদের মতে, মাদক নিয়ন্ত্রণে শুধু সেবনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে সরবরাহকারী ও কারবারের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা জরুরি।
মাদকের বিরুদ্ধে তথ্য দেওয়া নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, নিরাপদে অভিযোগ জানানোর পরিবেশ তৈরি হলে মাদকসংক্রান্ত তথ্য পাওয়া এবং কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে।
নালিতাবাড়ীতে মাদকের বিস্তার ঠেকাতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, অভিভাবক ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ চান স্থানীয়রা। একই সঙ্গে মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।































