ঢাকা ০১:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাজীপুরে ২৫ কেয়ারগিভারকে প্রশিক্ষণ

সিনিয়র প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:৪৫:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 91

গাজীপুরে ২৫ কেয়ারগিভারকে প্রশিক্ষণ

গাজীপুরের কোনাবাড়ী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের (বালিকা) ২৫ জন কেয়ারগিভারকে শিশুদের বাণিজ্যিক যৌন শোষণের ভুক্তভোগী শনাক্তকরণ, সহায়তা প্রদান ও মানসিক ট্রমা কাটিয়ে ওঠার ক্ষেত্রে যথাযথ সেবা নিশ্চিত করতে তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ‘ভুক্তভোগী সহায়তা সেবা ও ব্যবস্থাপনা’ বিষয়ে আয়োজিত এ প্রশিক্ষণ শেষ হয়। ইন্টারন্যাশনাল জাস্টিস মিশন (আইজেএম) বাংলাদেশ এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করে। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের সনদ দেওয়া হয়। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সমাজসেবা অধিদপ্তর ও আইজেএম বাংলাদেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত কৌশলগত অংশীদারত্বের আওতায় এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।

প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রতিষ্ঠান অধিশাখা) মোহাঃ কামরুজ্জামান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কোনাবাড়ী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) তানিয়া তাবাসসুম এবং আইজেএম বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ক্লেয়ার উইলকিনসন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কোনাবাড়ী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের ইনচার্জ মোসাম্মৎ তাসনিম ফেরদৌসী, গণমাধ্যমকর্মী ও আইজেএম বাংলাদেশের কর্মকর্তারা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাঃ কামরুজ্জামান বলেন, কেয়ারগিভারদের ভুক্তভোগী শিশুদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে ও তাদের পরিস্থিতি বুঝতে হবে। সবার সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই ভুক্তভোগী শিশুকে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। আইজেএম বাংলাদেশের তিন দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে আসা ভুক্তভোগী শিশুদের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে ভূমিকা রাখবে।

আইজেএম বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ক্লেয়ার উইলকিনসন বলেন, ভুক্তভোগী শিশুর সুরক্ষায় পুলিশ, আইনজীবী, বিচারক, কমিউনিটি ও কেয়ারগিভারসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। এ ধরনের সমন্বিত উদ্যোগ শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

তিনি বলেন, কোনাবাড়ী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের সেবাদানকারীদের শিশুদের বাণিজ্যিক যৌন শোষণসংক্রান্ত অপরাধ সম্পর্কে ধারণা দেওয়া এবং ভুক্তভোগী শিশুদের সঠিকভাবে শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতেই এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। কেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সেবা ও ভালো আচরণের মাধ্যমে শিশুরা মানসিক ট্রমা কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তানিয়া তাবাসসুম বলেন, শিশু সুরক্ষা এবং ভুক্তভোগীদের যথাযথ সেবা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভুক্তভোগী সহায়তা সেবা ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ আয়োজন করায় তিনি আইজেএম বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানান।

তিন দিনের প্রশিক্ষণে ভুক্তভোগীদের সেবার ধারণা ও মূলনীতি, সহায়তা প্রদানের কৌশল, ট্রমা ও এর প্রভাব, ভুক্তভোগীদের আচরণ বোঝা, সারভাইভারদের উদ্বেগ, স্মৃতি ও মানসিক আঘাতের সম্পর্ক, সাক্ষাৎকার গ্রহণের কৌশল এবং ফলোআপ সাক্ষাতে প্রশ্ন করার ধরন নিয়ে আলোচনা ও ব্যবহারিক অনুশীলন করা হয়।

প্রশিক্ষণে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের সোশ্যাল কেস ওয়ার্কার, কাউন্সেলর, সহকারী শিক্ষক, ট্রেড ইন্সট্রাক্টর, এমব্রয়ডারি ও কম্পিউটার ইন্সট্রাক্টর, চাইল্ড প্রোটেকশন সোশ্যাল ওয়ার্কার, সাইকিয়াট্রিক সোশ্যাল ওয়ার্কার, সাইকোসোশ্যাল কাউন্সেলর, মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট, প্রবেশন অফিসার, নার্স ও জুনিয়র ফিজিক্যাল ইন্সট্রাক্টররা অংশ নেন।

আইজেএম বাংলাদেশের মূল কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে শিশুদের বাণিজ্যিক যৌন শোষণ প্রতিরোধে বিচারব্যবস্থা শক্তিশালী করা, অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কারিগরি সহায়তা দেওয়া এবং ভুক্তভোগী শিশুদের উদ্ধার ও পুনর্বাসনে সহযোগিতা করা। পাশাপাশি শিশু সুরক্ষা বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতেও কাজ করছে সংস্থাটি।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে জাতীয় পর্যায়ে প্রকল্প উদ্বোধনের মাধ্যমে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগের ১১টি জেলায় আইজেএম বাংলাদেশের কার্যক্রম শুরু হয়। ঢাকা বিভাগের পাঁচ জেলা—ঢাকা, গাজীপুর, ফরিদপুর, রাজবাড়ী ও টাঙ্গাইলেও এর কার্যক্রম চলছে।

প্রতিষ্ঠানটি ভুক্তভোগী শিশুদের সুরক্ষায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কারিগরি সহায়তা, আইনি সেবা এবং উদ্ধার-পরবর্তী সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি পুলিশ, পাবলিক প্রসিকিউটর, বিচারক, সমাজসেবাকর্মী, উদ্ধার-পরবর্তী সেবাদাতা এবং শিশু কল্যাণ ও মানব পাচার প্রতিরোধ কমিটির সদস্যদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে।

এ ছাড়া বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রের অবকাঠামো উন্নয়ন, স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, নীতিমালা ও গণমাধ্যমে অ্যাডভোকেসি, কর্মশালা ও গোলটেবিল বৈঠক আয়োজন এবং ভুক্তভোগীদের নেতৃত্ব বিকাশেও কাজ করছে আইজেএম বাংলাদেশ।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

গাজীপুরে ২৫ কেয়ারগিভারকে প্রশিক্ষণ

সর্বশেষ আপডেট ০৮:৪৫:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গাজীপুরের কোনাবাড়ী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের (বালিকা) ২৫ জন কেয়ারগিভারকে শিশুদের বাণিজ্যিক যৌন শোষণের ভুক্তভোগী শনাক্তকরণ, সহায়তা প্রদান ও মানসিক ট্রমা কাটিয়ে ওঠার ক্ষেত্রে যথাযথ সেবা নিশ্চিত করতে তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ‘ভুক্তভোগী সহায়তা সেবা ও ব্যবস্থাপনা’ বিষয়ে আয়োজিত এ প্রশিক্ষণ শেষ হয়। ইন্টারন্যাশনাল জাস্টিস মিশন (আইজেএম) বাংলাদেশ এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করে। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের সনদ দেওয়া হয়। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সমাজসেবা অধিদপ্তর ও আইজেএম বাংলাদেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত কৌশলগত অংশীদারত্বের আওতায় এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।

প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রতিষ্ঠান অধিশাখা) মোহাঃ কামরুজ্জামান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কোনাবাড়ী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) তানিয়া তাবাসসুম এবং আইজেএম বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ক্লেয়ার উইলকিনসন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কোনাবাড়ী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের ইনচার্জ মোসাম্মৎ তাসনিম ফেরদৌসী, গণমাধ্যমকর্মী ও আইজেএম বাংলাদেশের কর্মকর্তারা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাঃ কামরুজ্জামান বলেন, কেয়ারগিভারদের ভুক্তভোগী শিশুদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে ও তাদের পরিস্থিতি বুঝতে হবে। সবার সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই ভুক্তভোগী শিশুকে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। আইজেএম বাংলাদেশের তিন দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে আসা ভুক্তভোগী শিশুদের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে ভূমিকা রাখবে।

আইজেএম বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ক্লেয়ার উইলকিনসন বলেন, ভুক্তভোগী শিশুর সুরক্ষায় পুলিশ, আইনজীবী, বিচারক, কমিউনিটি ও কেয়ারগিভারসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। এ ধরনের সমন্বিত উদ্যোগ শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

তিনি বলেন, কোনাবাড়ী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের সেবাদানকারীদের শিশুদের বাণিজ্যিক যৌন শোষণসংক্রান্ত অপরাধ সম্পর্কে ধারণা দেওয়া এবং ভুক্তভোগী শিশুদের সঠিকভাবে শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতেই এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। কেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সেবা ও ভালো আচরণের মাধ্যমে শিশুরা মানসিক ট্রমা কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তানিয়া তাবাসসুম বলেন, শিশু সুরক্ষা এবং ভুক্তভোগীদের যথাযথ সেবা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভুক্তভোগী সহায়তা সেবা ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ আয়োজন করায় তিনি আইজেএম বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানান।

তিন দিনের প্রশিক্ষণে ভুক্তভোগীদের সেবার ধারণা ও মূলনীতি, সহায়তা প্রদানের কৌশল, ট্রমা ও এর প্রভাব, ভুক্তভোগীদের আচরণ বোঝা, সারভাইভারদের উদ্বেগ, স্মৃতি ও মানসিক আঘাতের সম্পর্ক, সাক্ষাৎকার গ্রহণের কৌশল এবং ফলোআপ সাক্ষাতে প্রশ্ন করার ধরন নিয়ে আলোচনা ও ব্যবহারিক অনুশীলন করা হয়।

প্রশিক্ষণে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের সোশ্যাল কেস ওয়ার্কার, কাউন্সেলর, সহকারী শিক্ষক, ট্রেড ইন্সট্রাক্টর, এমব্রয়ডারি ও কম্পিউটার ইন্সট্রাক্টর, চাইল্ড প্রোটেকশন সোশ্যাল ওয়ার্কার, সাইকিয়াট্রিক সোশ্যাল ওয়ার্কার, সাইকোসোশ্যাল কাউন্সেলর, মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট, প্রবেশন অফিসার, নার্স ও জুনিয়র ফিজিক্যাল ইন্সট্রাক্টররা অংশ নেন।

আইজেএম বাংলাদেশের মূল কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে শিশুদের বাণিজ্যিক যৌন শোষণ প্রতিরোধে বিচারব্যবস্থা শক্তিশালী করা, অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কারিগরি সহায়তা দেওয়া এবং ভুক্তভোগী শিশুদের উদ্ধার ও পুনর্বাসনে সহযোগিতা করা। পাশাপাশি শিশু সুরক্ষা বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতেও কাজ করছে সংস্থাটি।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে জাতীয় পর্যায়ে প্রকল্প উদ্বোধনের মাধ্যমে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগের ১১টি জেলায় আইজেএম বাংলাদেশের কার্যক্রম শুরু হয়। ঢাকা বিভাগের পাঁচ জেলা—ঢাকা, গাজীপুর, ফরিদপুর, রাজবাড়ী ও টাঙ্গাইলেও এর কার্যক্রম চলছে।

প্রতিষ্ঠানটি ভুক্তভোগী শিশুদের সুরক্ষায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কারিগরি সহায়তা, আইনি সেবা এবং উদ্ধার-পরবর্তী সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি পুলিশ, পাবলিক প্রসিকিউটর, বিচারক, সমাজসেবাকর্মী, উদ্ধার-পরবর্তী সেবাদাতা এবং শিশু কল্যাণ ও মানব পাচার প্রতিরোধ কমিটির সদস্যদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে।

এ ছাড়া বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রের অবকাঠামো উন্নয়ন, স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, নীতিমালা ও গণমাধ্যমে অ্যাডভোকেসি, কর্মশালা ও গোলটেবিল বৈঠক আয়োজন এবং ভুক্তভোগীদের নেতৃত্ব বিকাশেও কাজ করছে আইজেএম বাংলাদেশ।