ঢাকা ০৩:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খামেনির জানাজায় হঠাৎ হাজির ‘মৃত’ আহমাদিনেজাদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০২:১৯:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬
  • / 51

ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ। ছবি: সংগৃহীত

যাকে যুদ্ধের প্রথম দিনেই মৃত বলে ধরে নেওয়া হয়েছিল, তিনি হঠাৎই হাজির হলেন ইরানের ইতিহাসের অন্যতম বড় রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানে। সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদের এই আকস্মিক উপস্থিতি ঘিরে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে ইরানে।

সোমবার (৬ জুলাই) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও শেষকৃত্যে তেহরানের রাজপথে লাখো শোকাহত মানুষের ভিড়ে সশরীরে উপস্থিত হন আহমাদিনেজাদ। কালো পোশাক ও সাধারণ একটি জ্যাকেট পরে, থুতনিতে মাস্ক নামানো অবস্থায় তাকে জনতার মধ্যে হাঁটতে দেখা যায়।

যুদ্ধের শুরুতেই ইরানের কয়েকটি রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যম দাবি করেছিল, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় খামেনির পাশাপাশি আহমাদিনেজাদও নিহত হয়েছেন। তার বাসভবনের কাছেও রকেট আঘাত হানার খবর ছড়িয়ে পড়ায় সেই গুঞ্জন আরও জোরালো হয়।

এরপর টানা কয়েক মাস জনসমক্ষে দেখা যায়নি সাবেক এই প্রেসিডেন্টকে। কোনো বক্তব্যও দেননি তিনি। এমনকি তিনি জীবিত নাকি নিহত- এ নিয়েও ইরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ফলে বিষয়টি ঘিরে তৈরি হয়েছিল রহস্য।

সেই রহস্যের অবসান ঘটিয়ে শেষ পর্যন্ত খামেনির শেষযাত্রায় উপস্থিত হয়ে সবাইকে চমকে দেন আহমাদিনেজাদ।

অন্যদিকে, ইরানের জীবিত দুই সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ খাতামিহাসান রুহানি এই রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যে অনুপস্থিত ছিলেন। সমালোচকদের দাবি, তাদের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণই জানানো হয়নি।

এদিকে বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচিকেও সাধারণ মানুষের সঙ্গে শোকমিছিলে অংশ নিতে দেখা যায়। প্রবল জনসমাগমের কারণে তিনি মোটরসাইকেলের পেছনে চড়ে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান।

যুদ্ধ, গুজব, নীরবতা আর নাটকীয় প্রত্যাবর্তন- সব মিলিয়ে আহমাদিনেজাদের এই উপস্থিতি এখন মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি হয়ে উঠেছে।

সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

খামেনির জানাজায় হঠাৎ হাজির ‘মৃত’ আহমাদিনেজাদ

সর্বশেষ আপডেট ০২:১৯:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

যাকে যুদ্ধের প্রথম দিনেই মৃত বলে ধরে নেওয়া হয়েছিল, তিনি হঠাৎই হাজির হলেন ইরানের ইতিহাসের অন্যতম বড় রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানে। সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদের এই আকস্মিক উপস্থিতি ঘিরে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে ইরানে।

সোমবার (৬ জুলাই) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও শেষকৃত্যে তেহরানের রাজপথে লাখো শোকাহত মানুষের ভিড়ে সশরীরে উপস্থিত হন আহমাদিনেজাদ। কালো পোশাক ও সাধারণ একটি জ্যাকেট পরে, থুতনিতে মাস্ক নামানো অবস্থায় তাকে জনতার মধ্যে হাঁটতে দেখা যায়।

যুদ্ধের শুরুতেই ইরানের কয়েকটি রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যম দাবি করেছিল, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় খামেনির পাশাপাশি আহমাদিনেজাদও নিহত হয়েছেন। তার বাসভবনের কাছেও রকেট আঘাত হানার খবর ছড়িয়ে পড়ায় সেই গুঞ্জন আরও জোরালো হয়।

এরপর টানা কয়েক মাস জনসমক্ষে দেখা যায়নি সাবেক এই প্রেসিডেন্টকে। কোনো বক্তব্যও দেননি তিনি। এমনকি তিনি জীবিত নাকি নিহত- এ নিয়েও ইরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ফলে বিষয়টি ঘিরে তৈরি হয়েছিল রহস্য।

সেই রহস্যের অবসান ঘটিয়ে শেষ পর্যন্ত খামেনির শেষযাত্রায় উপস্থিত হয়ে সবাইকে চমকে দেন আহমাদিনেজাদ।

অন্যদিকে, ইরানের জীবিত দুই সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ খাতামিহাসান রুহানি এই রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যে অনুপস্থিত ছিলেন। সমালোচকদের দাবি, তাদের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণই জানানো হয়নি।

এদিকে বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচিকেও সাধারণ মানুষের সঙ্গে শোকমিছিলে অংশ নিতে দেখা যায়। প্রবল জনসমাগমের কারণে তিনি মোটরসাইকেলের পেছনে চড়ে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান।

যুদ্ধ, গুজব, নীরবতা আর নাটকীয় প্রত্যাবর্তন- সব মিলিয়ে আহমাদিনেজাদের এই উপস্থিতি এখন মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি হয়ে উঠেছে।

সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ