ঢাকা ০১:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রথম প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন যাত্রা

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০১:১০:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
  • / 85

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে নতুন সরকার গঠনের পর প্রথমবারের মতো দ্বিপাক্ষিক সফরে বিদেশ যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর এই প্রথম বিদেশ সফরে তালিকায় রয়েছে মালয়েশিয়া ও চীন। শনিবার (২০ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সফরের নানা খুঁটিনাটি ও অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো তুলে ধরেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।

রাজনৈতিক মহলে সাধারণত সরকার প্রধানের প্রথম সফর হিসেবে ভারত বা চীনকে বেছে নেওয়ার রেওয়াজ থাকলেও, এবার তৃতীয় একটি দেশ অর্থাৎ মালয়েশিয়াকে সফরের শুরুতে রেখে বেইজিং যাওয়ার বিষয়টি বেশ আলোচনা ও আগ্রহের জন্ম দিয়েছে। সূচি অনুযায়ী—প্রধানমন্ত্রী আগামী ২১ ও ২২ জুন মালয়েশিয়ায় অবস্থান করবেন এবং সেখান থেকেই ২৩ জুন বেইজিংয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। সফর শেষে আগামী ২৬ জুন তাঁর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।

চীন সফরে চুক্তি ও দ্বিপাক্ষিক এজেন্ডা:

  • বড় সমঝোতার আভাস: বেইজিং সফরে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দুটি মূল চুক্তি এবং ১৩টি সমঝোতা স্মারক (MoU) সই হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
  • শীর্ষ বৈঠক: সফরকালে চীনের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
  • বৈশ্বিক উদ্যোগ ও তিস্তা প্রকল্প: চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের নেওয়া বৈশ্বিক উন্নয়নমূলক উদ্যোগগুলোকে (গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ) ঢাকা স্বাগত জানালেও, তাতে চূড়ান্তভাবে অংশ নেওয়ার ঘোষণাটি সফর শেষেই জানানো হবে। তবে এই সফরে বহুল আলোচিত তিস্তা মহাপরিকল্পনাসহ বাংলাদেশের সামগ্রিক নদী ব্যবস্থাপনা নিয়ে বেইজিংয়ের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার টেবিল প্রস্তুত রয়েছে।

মালয়েশিয়া সফরের মূল লক্ষ্য:

  • শ্রমবাজারের দুয়ার খোলা: মালয়েশিয়া সফরে ঢাকার মূল এজেন্ডা থাকবে দেশটির শ্রমবাজারে আরও বেশি পরিমাণ বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়াটি সহজ করা। তবে কুয়ালালামপুরের নিজস্ব চলমান রিভিউ বা পর্যালোচনা শেষ হওয়ার পরেই এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে বলে জানানো হয়েছে।
  • আসিয়ান জোটে অন্তর্ভুক্তির চেষ্টা: দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর আঞ্চলিক জোট ‘আসিয়ান’-এর পূর্ণাঙ্গ সদস্যপদ পাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রতি যেন মালয়েশিয়ার জোরালো সমর্থন থাকে, সেই অনুরোধ আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবেন প্রধানমন্ত্রী।
  • নেতৃবৃন্দ ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বৈঠক: কুয়ালালামপুরে অবস্থানকালে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ও রাজার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করার পাশাপাশি দেশটির বড় বড় বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর একটি বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রথম প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন যাত্রা

সর্বশেষ আপডেট ০১:১০:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে নতুন সরকার গঠনের পর প্রথমবারের মতো দ্বিপাক্ষিক সফরে বিদেশ যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর এই প্রথম বিদেশ সফরে তালিকায় রয়েছে মালয়েশিয়া ও চীন। শনিবার (২০ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সফরের নানা খুঁটিনাটি ও অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো তুলে ধরেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।

রাজনৈতিক মহলে সাধারণত সরকার প্রধানের প্রথম সফর হিসেবে ভারত বা চীনকে বেছে নেওয়ার রেওয়াজ থাকলেও, এবার তৃতীয় একটি দেশ অর্থাৎ মালয়েশিয়াকে সফরের শুরুতে রেখে বেইজিং যাওয়ার বিষয়টি বেশ আলোচনা ও আগ্রহের জন্ম দিয়েছে। সূচি অনুযায়ী—প্রধানমন্ত্রী আগামী ২১ ও ২২ জুন মালয়েশিয়ায় অবস্থান করবেন এবং সেখান থেকেই ২৩ জুন বেইজিংয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। সফর শেষে আগামী ২৬ জুন তাঁর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।

চীন সফরে চুক্তি ও দ্বিপাক্ষিক এজেন্ডা:

  • বড় সমঝোতার আভাস: বেইজিং সফরে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দুটি মূল চুক্তি এবং ১৩টি সমঝোতা স্মারক (MoU) সই হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
  • শীর্ষ বৈঠক: সফরকালে চীনের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
  • বৈশ্বিক উদ্যোগ ও তিস্তা প্রকল্প: চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের নেওয়া বৈশ্বিক উন্নয়নমূলক উদ্যোগগুলোকে (গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ) ঢাকা স্বাগত জানালেও, তাতে চূড়ান্তভাবে অংশ নেওয়ার ঘোষণাটি সফর শেষেই জানানো হবে। তবে এই সফরে বহুল আলোচিত তিস্তা মহাপরিকল্পনাসহ বাংলাদেশের সামগ্রিক নদী ব্যবস্থাপনা নিয়ে বেইজিংয়ের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার টেবিল প্রস্তুত রয়েছে।

মালয়েশিয়া সফরের মূল লক্ষ্য:

  • শ্রমবাজারের দুয়ার খোলা: মালয়েশিয়া সফরে ঢাকার মূল এজেন্ডা থাকবে দেশটির শ্রমবাজারে আরও বেশি পরিমাণ বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়াটি সহজ করা। তবে কুয়ালালামপুরের নিজস্ব চলমান রিভিউ বা পর্যালোচনা শেষ হওয়ার পরেই এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে বলে জানানো হয়েছে।
  • আসিয়ান জোটে অন্তর্ভুক্তির চেষ্টা: দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর আঞ্চলিক জোট ‘আসিয়ান’-এর পূর্ণাঙ্গ সদস্যপদ পাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রতি যেন মালয়েশিয়ার জোরালো সমর্থন থাকে, সেই অনুরোধ আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবেন প্রধানমন্ত্রী।
  • নেতৃবৃন্দ ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বৈঠক: কুয়ালালামপুরে অবস্থানকালে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ও রাজার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করার পাশাপাশি দেশটির বড় বড় বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর একটি বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।