কুয়াকাটা উপজেলা দাবিতে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি শুরু
- সর্বশেষ আপডেট ০৬:০৪:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
- / 71
কুয়াকাটাকে পৃথক উপজেলা হিসেবে ঘোষণা করার দাবিতে স্থানীয় পর্যায়ে জনমত ক্রমেই সংগঠিত হচ্ছে। পর্যটন ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক সমন্বয় জোরদারের লক্ষ্য নিয়ে তিন দিনের গণস্বাক্ষর কর্মসূচি শুরু করেছে কুয়াকাটা উন্নয়ন ফোরাম।
দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা—যাকে অনেকেই ‘সাগরকন্যা’ নামে চেনেন—এলাকাটিকে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলার দাবি দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয়দের মধ্যে আলোচিত। সেই দাবির অংশ হিসেবেই কুয়াকাটা উন্নয়ন ফোরাম তিন দিনব্যাপী গণস্বাক্ষর কর্মসূচি চালু করেছে, যার মাধ্যমে প্রায় ১০ হাজার মানুষের সমর্থন সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সোমবার বিকেলে কুয়াকাটা চৌরাস্তায় এই কর্মসূচির উদ্বোধন হয়। সেখানে স্থানীয় বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বক্তারা বলেন, কুয়াকাটা এখন আন্তর্জাতিক পর্যটন ব্র্যান্ড হিসেবে পরিচিত হলেও এর প্রশাসনিক কাঠামো সেই তুলনায় এখনও যথেষ্ট সমন্বিত নয়। হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টের বিস্তৃতি, নৌ-পুলিশ ও ট্যুরিস্ট পুলিশের উপস্থিতি, সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশনসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা থাকা সত্ত্বেও একক প্রশাসনিক ব্যবস্থার অভাবে উন্নয়ন গতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে তারা মনে করেন।
কুয়াকাটা উন্নয়ন ফোরামের আহ্বায়ক আঃ আজিজ মুসুল্লী বলেন, পর্যটন নগরী হিসেবে কুয়াকাটার সম্ভাবনাকে পূর্ণভাবে কাজে লাগাতে হলে আলাদা উপজেলা কাঠামো প্রয়োজন। তার মতে, সমন্বিত প্রশাসন ছাড়া পরিকল্পিত উন্নয়ন সম্ভব নয়।
ফোরামের মহাসচিব এম এ মোতালেব শরীফ মন্তব্য করেন, পর্যটন অবকাঠামোর দিক থেকে কুয়াকাটা উপজেলা হওয়ার সব শর্তই পূরণ করে। তিনি মহিপুরকে মূলত মৎস্য বন্দর হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, পর্যটন ব্যবস্থাপনায় কুয়াকাটার গুরুত্ব তুলনামূলকভাবে বেশি।
যুগ্ম মহাসচিব মতিউর রহমান বলেন, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ না হলে পর্যটন খাতে বিনিয়োগ ও পর্যটক দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তার মতে, এই সিদ্ধান্ত এখন সময়ের দাবি।
ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা মাঈনুল ইসলাম মান্নানও একই সুরে বলেন, কুয়াকাটার বাস্তবতা ও অবকাঠামো বিবেচনায় এটিকে উপজেলা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত, যাতে প্রশাসনিক জটিলতা কমে আসে।
ফোরামের নেতারা জানিয়েছেন, দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তারা ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। স্থানীয় সচেতন মহলও মনে করছে, পর্যটন অর্থনীতি এবং উপকূলীয় উন্নয়নের স্বার্থে এ বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।



































