কুয়াকাটায় একক প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের দাবি
- সর্বশেষ আপডেট ১০:০৪:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
- / 114
পরিকল্পিত উন্নয়ন, দ্রুত প্রশাসনিক সেবা ও টেকসই পর্যটন ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে কুয়াকাটার জন্য ‘একক প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ’ গঠনের দাবি জোরালো হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী, পর্যটন উদ্যোক্তা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, সমন্বিত কাঠামো ছাড়া সম্ভাবনাময় এ পর্যটন নগরীর কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়।
দেশের অন্যতম জনপ্রিয় সমুদ্রসৈকত কুয়াকাটাকে ঘিরে ‘একক প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ’ গঠনের দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা, পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন পেশাজীবী মহল মনে করছেন, কুয়াকাটার পরিকল্পিত উন্নয়ন ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার জন্য সমন্বিত প্রশাসনিক কাঠামো এখন সময়ের দাবি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমানে কুয়াকাটার উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, অবকাঠামো নির্মাণ, পর্যটন ব্যবস্থাপনা ও বিনিয়োগ কার্যক্রম বিভিন্ন দপ্তর ও প্রশাসনিক স্তরের মধ্যে বিভক্ত থাকায় সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব এবং সমন্বয়হীনতা দেখা দেয়। এতে উন্নয়ন কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হয়।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পর্যটন উদ্যোক্তারা বলছেন, একটি একক কর্তৃপক্ষ গঠিত হলে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন দ্রুত হবে, বিনিয়োগ বাড়বে, পরিবেশ সুরক্ষা জোরদার হবে এবং পর্যটন ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে।
বাংলাদেশের পর্যটন খাতে কুয়াকাটা একটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য। প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক পর্যটক এখানে ভ্রমণে আসেন। হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন ও পর্যটনসেবার সঙ্গে জড়িত হাজারো মানুষের জীবিকা এ খাতের ওপর নির্ভরশীল। তবে পর্যটকের সংখ্যা বাড়লেও সেই অনুপাতে নগর ব্যবস্থাপনা ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা এগোয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, বহুমুখী প্রশাসনিক নির্ভরতার কারণে ছোট-বড় অনেক সমস্যার সমাধানে দীর্ঘসূত্রিতা তৈরি হয়। একক প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে উঠলে উন্নয়ন, বিনিয়োগ, পরিবেশ সংরক্ষণ ও দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সহজ হবে।
এদিকে, কুয়াকাটাকে দেশের পর্যটন খাতের একটি প্রতিষ্ঠিত পরিচিতি হিসেবে উল্লেখ করে অনেকেই ভবিষ্যতের যেকোনো প্রশাসনিক বা উন্নয়ন কাঠামোয় ‘কুয়াকাটা’ নামটিকে প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে নতুন প্রশাসনিক ব্যবস্থা গঠনের বিষয়ে ভিন্নমতও রয়েছে। কেউ কেউ বিদ্যমান কাঠামো বহাল রেখে আগে বিস্তারিত সমীক্ষা ও সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
পর্যটন উন্নয়নকর্মীদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, উপকূলীয় ঝুঁকি, পরিবেশ সংরক্ষণ, বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা ও পর্যটন সম্প্রসারণের মতো বিষয়গুলোকে একসঙ্গে বিবেচনায় এনে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে কুয়াকাটা বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, সুশীল সমাজ ও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, কুয়াকাটার প্রশাসনিক ও উন্নয়ন ভবিষ্যৎ নিয়ে চলমান আলোচনা নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে গুরুত্ব পাবে এবং পর্যটন নগরীটির জন্য কার্যকর ও সমন্বিত প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলা হবে।



































