ঢাকা ১২:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কাপ্তাই বাঁধের ১৬ গেট ৩ ফুট করে খুলে দেওয়া হলো

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাঙ্গামাটি
  • সর্বশেষ আপডেট ০৩:৩৪:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
  • / 83

কাপ্তাই বাঁধ । (ফাইল ছবি)

কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় রাঙ্গামাটির কাপ্তাই বাঁধের স্পিলওয়ের ১৬টি গেট ৩ ফুট করে খুলে দেওয়া হয়েছে। রোববার (৩০ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে গেটগুলো দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৫৮ হাজার কিউসেক পানি কাপ্তাই হ্রদ থেকে কর্ণফুলী নদীতে নিষ্কাশিত হচ্ছে।

হ্রদের পানির চাপ নিয়ন্ত্রণে এর আগে প্রথম দফায় স্পিলওয়ের ১৬টি গেট ৬ ইঞ্চি করে খোলা হয়েছিল। পরে পর্যায়ক্রমে গেটের ওপেনিং ১ ফুট ও ২ ফুট করা হয়। পানির স্তর আরও বাড়তে থাকায় রোববার সকাল থেকে গেটগুলো ৩ ফুট করে খুলে দেওয়া হয়েছে।

কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বলেন, কাপ্তাই হ্রদ তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা করাই এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে স্লুইসগেটের গেট ৩ ফুট করে খোলা হয়েছে।

তিনি বলেন, আপাতত এর চেয়ে বেশি খোলার পরিকল্পনা নেই। কারণ গেট আরও বেশি খুলে দিলে কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে প্লাবনের আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমানে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর ১০৬ দশমিক ০২ ফুট মিনস সি লেভেলে রয়েছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

এদিকে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময়ও প্রায় ৩২ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে গেট দিয়ে পানি নিষ্কাশন ও বিদ্যুৎ উৎপাদন মিলিয়ে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৯০ হাজার কিউসেক পানি কাপ্তাই হ্রদ থেকে কর্ণফুলী নদীতে যাচ্ছে।

বিপুল পরিমাণ পানি নিষ্কাশনের ফলে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর কমতে শুরু করেছে। এতে রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি, জুরাছড়ি ও বরকল উপজেলার নিম্নাঞ্চলে প্লাবিত এলাকাগুলোতেও পানি কমতে শুরু করেছে।

তবে বাঁধের গেট দিয়ে বিপুল পরিমাণ পানি ছাড়ার কারণে কর্ণফুলী নদীর পানির স্তর দ্রুত বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ অবস্থায় নদীর নিম্নাঞ্চল ও তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

বিশেষ করে রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও হাটহাজারীসহ কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে যাওয়ার প্রস্তুতি রাখতেও বলা হয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

কাপ্তাই বাঁধের ১৬ গেট ৩ ফুট করে খুলে দেওয়া হলো

সর্বশেষ আপডেট ০৩:৩৪:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় রাঙ্গামাটির কাপ্তাই বাঁধের স্পিলওয়ের ১৬টি গেট ৩ ফুট করে খুলে দেওয়া হয়েছে। রোববার (৩০ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে গেটগুলো দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৫৮ হাজার কিউসেক পানি কাপ্তাই হ্রদ থেকে কর্ণফুলী নদীতে নিষ্কাশিত হচ্ছে।

হ্রদের পানির চাপ নিয়ন্ত্রণে এর আগে প্রথম দফায় স্পিলওয়ের ১৬টি গেট ৬ ইঞ্চি করে খোলা হয়েছিল। পরে পর্যায়ক্রমে গেটের ওপেনিং ১ ফুট ও ২ ফুট করা হয়। পানির স্তর আরও বাড়তে থাকায় রোববার সকাল থেকে গেটগুলো ৩ ফুট করে খুলে দেওয়া হয়েছে।

কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বলেন, কাপ্তাই হ্রদ তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা করাই এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে স্লুইসগেটের গেট ৩ ফুট করে খোলা হয়েছে।

তিনি বলেন, আপাতত এর চেয়ে বেশি খোলার পরিকল্পনা নেই। কারণ গেট আরও বেশি খুলে দিলে কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে প্লাবনের আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমানে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর ১০৬ দশমিক ০২ ফুট মিনস সি লেভেলে রয়েছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

এদিকে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময়ও প্রায় ৩২ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে গেট দিয়ে পানি নিষ্কাশন ও বিদ্যুৎ উৎপাদন মিলিয়ে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৯০ হাজার কিউসেক পানি কাপ্তাই হ্রদ থেকে কর্ণফুলী নদীতে যাচ্ছে।

বিপুল পরিমাণ পানি নিষ্কাশনের ফলে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর কমতে শুরু করেছে। এতে রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি, জুরাছড়ি ও বরকল উপজেলার নিম্নাঞ্চলে প্লাবিত এলাকাগুলোতেও পানি কমতে শুরু করেছে।

তবে বাঁধের গেট দিয়ে বিপুল পরিমাণ পানি ছাড়ার কারণে কর্ণফুলী নদীর পানির স্তর দ্রুত বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ অবস্থায় নদীর নিম্নাঞ্চল ও তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

বিশেষ করে রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও হাটহাজারীসহ কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে যাওয়ার প্রস্তুতি রাখতেও বলা হয়েছে।