ঢাকা ০৫:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজারে সড়ক নির্মাণে বালিয়াড়ি নষ্ট, বিআইপির উদ্বেগ

সিনিয়র প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৪:৫৩:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
  • / 110

কক্সবাজারে সড়ক নির্মাণে বালিয়াড়ি নষ্ট, বিআইপির উদ্বেগ

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের বালিয়াড়ি ও উপকূলীয় পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত করে সড়ক নির্মাণের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)। একই সঙ্গে কক্সবাজারের উন্নয়নকে পরিবেশসম্মত, পরিকল্পিত ও জলবায়ু-সহনশীল করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

রোববার (৩০ আগস্ট) দেওয়া এক বিবৃতিতে বিআইপি জানায়, কক্সবাজার পৌরসভা বাস্তবায়িত নগর উন্নয়ন ও নগর শাসন প্রকল্পের আওতায় জাইকার অর্থায়নে সুগন্ধা পয়েন্ট থেকে হোটেল সায়মন পর্যন্ত উপকূলীয় সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য সৈকতের বালিয়াড়ি ও উপকূলীয় পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনায় তারা উদ্বিগ্ন।

বিআইপি বলছে, সমুদ্রসৈকতের বালিয়াড়ি, উপকূলীয় উদ্ভিদ ও প্রাকৃতিক বালুর স্তর শুধু সৈকতের সৌন্দর্য রক্ষা করে না; এগুলো ঢেউ, ঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও উপকূলীয় ক্ষয়ের বিরুদ্ধে প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা হিসেবে কাজ করে। পাশাপাশি এসব বালিয়াড়ি উপকূলীয় জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল।

সংগঠনটির মতে, সড়ক নির্মাণের জন্য বালিয়াড়ি ভরাট, সমতল বা অপসারণ করা হলে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতির পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে কক্সবাজারের প্রাকৃতিক উপকূলীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। এতে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

বিআইপি আরও জানায়, ভাঙনপ্রবণ এলাকা রক্ষা ও পর্যটকদের সুবিধা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে নেওয়া কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নে যদি উপকূলের প্রাকৃতিক সুরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে ওই প্রকল্পের পরিকল্পনাগত যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সংবেদনশীল বালিয়াড়ি অঞ্চল এড়িয়ে বিকল্প স্থানে সড়ক নির্মাণের সুযোগ ছিল কি না এবং বিকল্প স্থান ও নকশা যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে চিহ্নিত সংবেদনশীল অঞ্চলে যেকোনো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পরিবেশগত আইন, বিধিবিধান ও অনুমোদন প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা জরুরি বলেও উল্লেখ করেছে বিআইপি।

সংগঠনটির প্রশ্ন, সংশ্লিষ্ট সড়ক নির্মাণের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রয়োজনীয় পরিবেশগত ছাড়পত্র নেওয়া হয়েছে কি না। প্রয়োজনীয় পরিবেশগত অনুমোদন ও মূল্যায়ন ছাড়া এ ধরনের এলাকায় নির্মাণকাজ করা হলে তা আইনগত ও পরিবেশগত বিধিবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে বলে সতর্ক করেছে তারা।

বিআইপি মনে করে, কক্সবাজারের উন্নয়নকে শুধু বিচ্ছিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ হিসেবে দেখলে চলবে না। পরিবহন, পর্যটন, পরিবেশ সংরক্ষণ, দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও জলবায়ু সহনশীলতাকে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করে উন্নয়ন পরিকল্পনা করতে হবে।

সংগঠনটি বলেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উপকূলীয় ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে। তাই কক্সবাজারের বালিয়াড়ি ও উপকূলীয় উদ্ভিদকে প্রাকৃতিক সুরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে সংরক্ষণ করা জরুরি। উন্নয়নের নামে এসব প্রাকৃতিক সুরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে অবকাঠামো নির্মাণ টেকসই উন্নয়নের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

এ অবস্থায় চলমান নির্মাণকাজ অবিলম্বে স্থগিত করে প্রকল্পটির পরিবেশগত, জলবায়ুগত, দুর্যোগ ঝুঁকি ও পরিকল্পনাগত প্রভাব স্বাধীনভাবে পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছে বিআইপি।

একই সঙ্গে প্রকল্পটির পরিবেশগত ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন যাচাই, বালিয়াড়ি ও উপকূলীয় পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রেখে বিকল্প স্থান ও নকশা বিবেচনা এবং এ বিষয়ে বিআইপিসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

পুনর্মূল্যায়নে প্রকল্পটি পরিবেশ ও উপকূলীয় পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর প্রমাণিত হলে তা বাতিল করে টেকসই ও পরিবেশসম্মত বিকল্প গ্রহণের দাবি জানিয়েছে বিআইপি।

সংগঠনটির ভাষ্য, কক্সবাজারের বালিয়াড়ি ও উপকূলীয় পরিবেশই এ অঞ্চলের অন্যতম প্রাকৃতিক সুরক্ষা ব্যবস্থা। তাই এসব সম্পদ সংরক্ষণ করেই পরিকল্পিত, পরিবেশসম্মত ও জলবায়ু-সহনশীল উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

কক্সবাজারে সড়ক নির্মাণে বালিয়াড়ি নষ্ট, বিআইপির উদ্বেগ

সর্বশেষ আপডেট ০৪:৫৩:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের বালিয়াড়ি ও উপকূলীয় পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত করে সড়ক নির্মাণের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)। একই সঙ্গে কক্সবাজারের উন্নয়নকে পরিবেশসম্মত, পরিকল্পিত ও জলবায়ু-সহনশীল করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

রোববার (৩০ আগস্ট) দেওয়া এক বিবৃতিতে বিআইপি জানায়, কক্সবাজার পৌরসভা বাস্তবায়িত নগর উন্নয়ন ও নগর শাসন প্রকল্পের আওতায় জাইকার অর্থায়নে সুগন্ধা পয়েন্ট থেকে হোটেল সায়মন পর্যন্ত উপকূলীয় সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য সৈকতের বালিয়াড়ি ও উপকূলীয় পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনায় তারা উদ্বিগ্ন।

বিআইপি বলছে, সমুদ্রসৈকতের বালিয়াড়ি, উপকূলীয় উদ্ভিদ ও প্রাকৃতিক বালুর স্তর শুধু সৈকতের সৌন্দর্য রক্ষা করে না; এগুলো ঢেউ, ঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও উপকূলীয় ক্ষয়ের বিরুদ্ধে প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা হিসেবে কাজ করে। পাশাপাশি এসব বালিয়াড়ি উপকূলীয় জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল।

সংগঠনটির মতে, সড়ক নির্মাণের জন্য বালিয়াড়ি ভরাট, সমতল বা অপসারণ করা হলে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতির পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে কক্সবাজারের প্রাকৃতিক উপকূলীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। এতে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

বিআইপি আরও জানায়, ভাঙনপ্রবণ এলাকা রক্ষা ও পর্যটকদের সুবিধা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে নেওয়া কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নে যদি উপকূলের প্রাকৃতিক সুরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে ওই প্রকল্পের পরিকল্পনাগত যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সংবেদনশীল বালিয়াড়ি অঞ্চল এড়িয়ে বিকল্প স্থানে সড়ক নির্মাণের সুযোগ ছিল কি না এবং বিকল্প স্থান ও নকশা যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে চিহ্নিত সংবেদনশীল অঞ্চলে যেকোনো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পরিবেশগত আইন, বিধিবিধান ও অনুমোদন প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা জরুরি বলেও উল্লেখ করেছে বিআইপি।

সংগঠনটির প্রশ্ন, সংশ্লিষ্ট সড়ক নির্মাণের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রয়োজনীয় পরিবেশগত ছাড়পত্র নেওয়া হয়েছে কি না। প্রয়োজনীয় পরিবেশগত অনুমোদন ও মূল্যায়ন ছাড়া এ ধরনের এলাকায় নির্মাণকাজ করা হলে তা আইনগত ও পরিবেশগত বিধিবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে বলে সতর্ক করেছে তারা।

বিআইপি মনে করে, কক্সবাজারের উন্নয়নকে শুধু বিচ্ছিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ হিসেবে দেখলে চলবে না। পরিবহন, পর্যটন, পরিবেশ সংরক্ষণ, দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও জলবায়ু সহনশীলতাকে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করে উন্নয়ন পরিকল্পনা করতে হবে।

সংগঠনটি বলেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উপকূলীয় ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে। তাই কক্সবাজারের বালিয়াড়ি ও উপকূলীয় উদ্ভিদকে প্রাকৃতিক সুরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে সংরক্ষণ করা জরুরি। উন্নয়নের নামে এসব প্রাকৃতিক সুরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে অবকাঠামো নির্মাণ টেকসই উন্নয়নের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

এ অবস্থায় চলমান নির্মাণকাজ অবিলম্বে স্থগিত করে প্রকল্পটির পরিবেশগত, জলবায়ুগত, দুর্যোগ ঝুঁকি ও পরিকল্পনাগত প্রভাব স্বাধীনভাবে পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছে বিআইপি।

একই সঙ্গে প্রকল্পটির পরিবেশগত ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন যাচাই, বালিয়াড়ি ও উপকূলীয় পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রেখে বিকল্প স্থান ও নকশা বিবেচনা এবং এ বিষয়ে বিআইপিসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

পুনর্মূল্যায়নে প্রকল্পটি পরিবেশ ও উপকূলীয় পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর প্রমাণিত হলে তা বাতিল করে টেকসই ও পরিবেশসম্মত বিকল্প গ্রহণের দাবি জানিয়েছে বিআইপি।

সংগঠনটির ভাষ্য, কক্সবাজারের বালিয়াড়ি ও উপকূলীয় পরিবেশই এ অঞ্চলের অন্যতম প্রাকৃতিক সুরক্ষা ব্যবস্থা। তাই এসব সম্পদ সংরক্ষণ করেই পরিকল্পিত, পরিবেশসম্মত ও জলবায়ু-সহনশীল উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে।