ঢাকা ০২:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঐতিহ্য প্রকাশ করবে ‘আবদুল হাই শিকদার-রচনাবলি’

সিনিয়র প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৭:৩১:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 136

ঐতিহ্য প্রকাশ করবে ‘আবদুল হাই শিকদার-রচনাবলি’

বাংলাদেশের বিশিষ্ট কবি, লেখক, সাংবাদিক ও সম্পাদক আবদুল হাই শিকদারের বিস্তৃত সাহিত্যকর্ম নিয়ে পূর্ণাঙ্গ ‘আবদুল হাই শিকদার-রচনাবলি’ প্রকাশ করতে যাচ্ছে দেশের অন্যতম বৃহৎ প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ঐতিহ্য। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর পুরানা পল্টনে ঐতিহ্যের প্রধান কার্যালয়ে লেখক আবদুল হাই শিকদার ও প্রকাশক আরিফুর রহমান নাইমের মধ্যে আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

আবদুল হাই শিকদার সমকালীন বাংলা সাহিত্যের বহুমাত্রিক লেখক। কবিতা, ছড়া, গল্প, প্রবন্ধ, গবেষণা, জীবনী, ভ্রমণ, শিশুসাহিত্য, চলচ্চিত্র ও সম্পাদনাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে রয়েছে তার দীর্ঘ সাহিত্যিক কর্মকাণ্ড। এ পর্যন্ত তার প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা শতাধিক।

১৯৫৭ সালের ১ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার দুধকুমার নদীর তীরবর্তী দক্ষিণ ছাট গোপালপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আবদুল হাই শিকদার। শৈশব ও কৈশোরে মওলানা ভাসানীর রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব তার জীবনে পড়েছে বলে তিনি বিভিন্ন সময়ে উল্লেখ করেছেন। তার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বড় একটি সময় কেটেছে রংপুরের কারমাইকেল কলেজে। পরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতক সম্মান ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

তার সাহিত্যিক পরিচয়ের অন্যতম প্রধান দিক কবিতা। দেশ, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ, জাতিসত্তা, রাজনৈতিক সংঘাত, প্রেম, প্রকৃতি, ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক অনুভব এবং সামাজিক প্রতিরোধ তার কবিতার অন্যতম বিষয়। ইতিহাসকে সমকালীন বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত করার প্রবণতা তার কবিতায় বিশেষভাবে লক্ষণীয়। এ কারণে অনেকেই তাকে ‘জাতিসত্তার কবি’ হিসেবে অভিহিত করেন।

সাহিত্যের পাশাপাশি সাংবাদিকতাতেও দীর্ঘ সময় সক্রিয় ছিলেন আবদুল হাই শিকদার। পেশাগত জীবনে বিভিন্ন সময়ে সাংবাদিক সংগঠন ও গণমাধ্যমসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। কবি কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়েও তার উল্লেখযোগ্য গবেষণা, সম্পাদনা ও তথ্যচিত্র নির্মাণের কাজ রয়েছে। জীবনী, গবেষণা ও ইতিহাসভিত্তিক নানা কাজেও তিনি অবদান রেখেছেন। সাহিত্য ও সাংবাদিকতায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলা একাডেমি পুরস্কারসহ বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন তিনি।

দীর্ঘ সাহিত্যজীবনে কবিতা, প্রবন্ধ, গবেষণা, সমালোচনা, সাংবাদিকতা, সম্পাদনা ও অন্যান্য সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন আবদুল হাই শিকদার। তার লেখায় ইতিহাস, সমাজ, সংস্কৃতি, রাজনীতি, মানুষ ও সময়ের নানা অভিঘাত উঠে এসেছে।

ঐতিহ্য কর্তৃপক্ষ জানায়, আবদুল হাই শিকদারের এ পর্যন্ত প্রকাশিত এবং প্রাসঙ্গিক বিভিন্ন ধরনের রচনা সংগ্রহ ও সম্পাদনার মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে রচনাবলিটি প্রকাশ করা হবে। এর মাধ্যমে তার দীর্ঘ সৃজনশীল জীবনের বিচিত্র কর্ম একত্রে সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের পাঠকদের কাছেও তা সহজে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ লেখকদের রচনাসম্ভার সংরক্ষণ ও পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে ঐতিহ্য দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানটি ২৭টি রচনাবলি প্রকাশ করেছে। বাংলা ভাষার গুরুত্বপূর্ণ লেখকদের রচনাবলি প্রকাশের ক্ষেত্রে ঐতিহ্য বর্তমানে দেশের অন্যতম পরিচিত প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ঐতিহ্য প্রকাশ করবে ‘আবদুল হাই শিকদার-রচনাবলি’

সর্বশেষ আপডেট ০৭:৩১:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশের বিশিষ্ট কবি, লেখক, সাংবাদিক ও সম্পাদক আবদুল হাই শিকদারের বিস্তৃত সাহিত্যকর্ম নিয়ে পূর্ণাঙ্গ ‘আবদুল হাই শিকদার-রচনাবলি’ প্রকাশ করতে যাচ্ছে দেশের অন্যতম বৃহৎ প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ঐতিহ্য। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর পুরানা পল্টনে ঐতিহ্যের প্রধান কার্যালয়ে লেখক আবদুল হাই শিকদার ও প্রকাশক আরিফুর রহমান নাইমের মধ্যে আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

আবদুল হাই শিকদার সমকালীন বাংলা সাহিত্যের বহুমাত্রিক লেখক। কবিতা, ছড়া, গল্প, প্রবন্ধ, গবেষণা, জীবনী, ভ্রমণ, শিশুসাহিত্য, চলচ্চিত্র ও সম্পাদনাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে রয়েছে তার দীর্ঘ সাহিত্যিক কর্মকাণ্ড। এ পর্যন্ত তার প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা শতাধিক।

১৯৫৭ সালের ১ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার দুধকুমার নদীর তীরবর্তী দক্ষিণ ছাট গোপালপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আবদুল হাই শিকদার। শৈশব ও কৈশোরে মওলানা ভাসানীর রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব তার জীবনে পড়েছে বলে তিনি বিভিন্ন সময়ে উল্লেখ করেছেন। তার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বড় একটি সময় কেটেছে রংপুরের কারমাইকেল কলেজে। পরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতক সম্মান ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

তার সাহিত্যিক পরিচয়ের অন্যতম প্রধান দিক কবিতা। দেশ, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ, জাতিসত্তা, রাজনৈতিক সংঘাত, প্রেম, প্রকৃতি, ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক অনুভব এবং সামাজিক প্রতিরোধ তার কবিতার অন্যতম বিষয়। ইতিহাসকে সমকালীন বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত করার প্রবণতা তার কবিতায় বিশেষভাবে লক্ষণীয়। এ কারণে অনেকেই তাকে ‘জাতিসত্তার কবি’ হিসেবে অভিহিত করেন।

সাহিত্যের পাশাপাশি সাংবাদিকতাতেও দীর্ঘ সময় সক্রিয় ছিলেন আবদুল হাই শিকদার। পেশাগত জীবনে বিভিন্ন সময়ে সাংবাদিক সংগঠন ও গণমাধ্যমসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। কবি কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়েও তার উল্লেখযোগ্য গবেষণা, সম্পাদনা ও তথ্যচিত্র নির্মাণের কাজ রয়েছে। জীবনী, গবেষণা ও ইতিহাসভিত্তিক নানা কাজেও তিনি অবদান রেখেছেন। সাহিত্য ও সাংবাদিকতায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলা একাডেমি পুরস্কারসহ বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন তিনি।

দীর্ঘ সাহিত্যজীবনে কবিতা, প্রবন্ধ, গবেষণা, সমালোচনা, সাংবাদিকতা, সম্পাদনা ও অন্যান্য সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন আবদুল হাই শিকদার। তার লেখায় ইতিহাস, সমাজ, সংস্কৃতি, রাজনীতি, মানুষ ও সময়ের নানা অভিঘাত উঠে এসেছে।

ঐতিহ্য কর্তৃপক্ষ জানায়, আবদুল হাই শিকদারের এ পর্যন্ত প্রকাশিত এবং প্রাসঙ্গিক বিভিন্ন ধরনের রচনা সংগ্রহ ও সম্পাদনার মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে রচনাবলিটি প্রকাশ করা হবে। এর মাধ্যমে তার দীর্ঘ সৃজনশীল জীবনের বিচিত্র কর্ম একত্রে সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের পাঠকদের কাছেও তা সহজে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ লেখকদের রচনাসম্ভার সংরক্ষণ ও পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে ঐতিহ্য দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানটি ২৭টি রচনাবলি প্রকাশ করেছে। বাংলা ভাষার গুরুত্বপূর্ণ লেখকদের রচনাবলি প্রকাশের ক্ষেত্রে ঐতিহ্য বর্তমানে দেশের অন্যতম পরিচিত প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে।