সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের হাতেই একীভূত পাঁচ ব্যাংক
- সর্বশেষ আপডেট ০৮:৩৮:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
- / 215
ইউনিয়ন ব্যাংক ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের দায়িত্ব হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে একীভূত পাঁচটি শরীয়াহভিত্তিক ব্যাংকের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বুঝে পেল সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক। এর ফলে এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের প্রশাসকদের সরিয়ে নতুন ব্যাংকের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর সম্পন্ন হলো।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ ব্যাংকে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ইউনিয়ন ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের দায়িত্ব সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কাছে তুলে দেওয়া হয়।
এর আগে গত ৩০ জুন প্রথম ব্যাংক হিসেবে এক্সিম ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেয় সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক। এরপর ৬ আগস্ট সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক এবং ১০ আগস্ট ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের দায়িত্ব নতুন ব্যাংকের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে একীভূত হওয়া এসব ব্যাংকের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও ঋণের অর্থ লুটপাটের অভিযোগ ওঠে। ইউনিয়ন ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের মালিকানায় ছিল চট্টগ্রামভিত্তিক শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপ। একই গ্রুপ ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণও নিয়েছিল। অন্যদিকে এক্সিম ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে ছিলেন নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার।
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর এসব ব্যাংকের আর্থিক অনিয়মের নানা তথ্য সামনে আসতে থাকে। বিতরণ করা ঋণের বড় একটি অংশ খেলাপি হয়ে পড়ায় ব্যাংকগুলো আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে সংকটে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক তারল্য সহায়তা দিলেও প্রত্যাশিত উন্নতি হয়নি।
এ অবস্থায় অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সমস্যাগ্রস্ত পাঁচটি শরীয়াহভিত্তিক ব্যাংককে একীভূত করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ধারাবাহিকতায় গত বছরের ৩০ নভেম্বর সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়া হয় এবং এরপর পাঁচ ব্যাংককে নতুন এই প্রতিষ্ঠানের অধীনে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা বর্তমানে সরকারের হাতে থাকছে। তবে ভবিষ্যতে ব্যাংকটির মালিকানা বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। ব্যাংকটির অনুমোদিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৩৫ হাজার কোটি টাকা।
পরিশোধিত মূলধনের মধ্যে সরকার ২০ হাজার কোটি টাকা দিচ্ছে। বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা আসবে আমানত বীমা তহবিল থেকে।






























