পশু আমদানি না করার কারণ জানালো সরকার
- সর্বশেষ আপডেট ০৬:৩১:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
- / 158
আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশের কোরবানির পশু নিয়ে এখনই স্বস্তির বার্তা দিয়েছে সরকার। প্রাণিসম্পদ খাতের তথ্যে এবার অভ্যন্তরীণ চাহিদার তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পশু বেশি থাকায় বিদেশি পশু আমদানির প্রয়োজন পড়বে না বলে জানানো হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আয়োজিত এক আলোচনায় এ তথ্য তুলে ধরেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেন, চলতি মৌসুমে দেশে কোরবানির জন্য প্রস্তুত গবাদিপশুর সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ২৩ লাখের বেশি, যেখানে সম্ভাব্য চাহিদা ধরা হয়েছে প্রায় ১ কোটি ২ লাখের কাছাকাছি। ফলে বাজারে বড় ধরনের উদ্বৃত্ত তৈরি হচ্ছে।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, এই পরিস্থিতিতে বাইরের দেশ থেকে পশু আনার কোনো যৌক্তিকতা নেই। বরং দেশীয় খামারিদের উৎপাদিত পশুই চাহিদা পূরণে যথেষ্ট। তিনি সীমান্ত পথে অবৈধ পশু প্রবেশের বিষয়ে কঠোর নজরদারির কথাও উল্লেখ করেন, যাতে স্থানীয় বাজার কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
আলোচনায় তিনি ক্রেতাদেরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। অবৈধভাবে আনা পশু দিয়ে কোরবানি দেওয়া ধর্মীয় ও নৈতিক দিক থেকে প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। পাশাপাশি দেশীয় খামারিদের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করাকে সরকারের অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেন।
প্রতিমন্ত্রীর মতে, সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা শুধু দেশীয় চাহিদা পূরণেই সীমাবদ্ধ নয়; ভবিষ্যতে এই খাতকে রপ্তানিমুখী করার দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এজন্য খামারিদের প্রশিক্ষণ ও চিকিৎসা সহায়তা বাড়ানোর কাজ চলছে।
ঈদুল আজহা উপলক্ষে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, সারাদেশে কোরবানিযোগ্য পশুর মোট সম্ভাব্য সরবরাহ বা প্রস্তুতি রয়েছে ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি। এর বিপরীতে সম্ভাব্য কোরবানির চাহিদা ধরা হয়েছে ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪টি।
মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চাহিদার চেয়ে প্রায় ২২ লাখের বেশি পশু উদ্বৃত্ত থাকায় দেশে পশুর কোনো সংকট হবে না। দেশীয় খামারিদের প্রস্তুতকৃত পশু দিয়েই এবার কোরবানি সম্পূর্ণভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে এবং বিদেশ থেকে পশু আমদানির কোনো প্রয়োজন নেই।




































