ঢাকা ০২:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
হরমুজ প্রণালীতে সামরিক উত্তেজনা

ইরানি রাডারে মার্কিন হামলা, আইআরজিসির পাল্টা মিসাইল

অন্তার্জাতিক ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১১:০৩:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
  • / 40

এইআই নির্মিত ছবি

পারস্য উপসাগরের কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালীর নিকটবর্তী এলাকায় ইরানের একাধিক রাডার স্থাপনায় আকস্মিক বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এই অভিযানকে একটি ‘প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ’ বলে দাবি করা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার (২ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে জানানো হয়, হরমুজ প্রণালী এলাকায় সাম্প্রতিক নিরাপত্তা হুমকি এবং ইরানি সামরিক তৎপরতার জবাবেই মূলত এই হামলা পরিচালিত হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, এই হামলার মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের রাডার ও নজরদারি সক্ষমতা সম্পূর্ণ দুর্বল করা, যাতে ওই অঞ্চলে মার্কিন ও মিত্রবাহিনীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। তবে এটি কোনো বৃহৎ আক্রমণাত্মক অভিযানের অংশ নয়; বরং সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় একটি সীমিত ও লক্ষ্যভিত্তিক সামরিক পদক্ষেপ।

এদিকে, নিজেদের রাডার স্থাপনায় মার্কিন হামলার তীব্র ও পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী। মার্কিন অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় ইতিমধ্যেই কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে জোরালো হামলা চালিয়েছে তারা। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক বার্তায় জানিয়েছে, তারা ওই অঞ্চলে অবস্থিত ‘শত্রুপক্ষের ঘাঁটিগুলোতে’ সফলভাবে আঘাত হেনেছে এবং এসব লক্ষ্যবস্তুতে অত্যাধুনিক ‘অ্যারোস্পেস মিসাইল’ ব্যবহার করা হয়েছে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, হরমুজ প্রণালীসংলগ্ন ইরানের সিরিক শহর এবং কেশম দ্বীপে মার্কিন সেনাবাহিনীর হামলার জবাব হিসেবেই আইআরজিসি এই পাল্টা অভিযান পরিচালনা করেছে। তবে এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কৌশলগত এই জলপথকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ ও বিরোধ এখন সরাসরি সংঘাতে রূপ নিয়েছে। এই অঞ্চলে যেকোনো ধরণের সংঘাত বৃদ্ধি পেলে তা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সরাসরি মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।

কারণ, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হিসেবে পরিচিত এই রুটটি দিয়েই প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ করা হয়। ওয়াশিংটনের এই বিমান হামলার পর তেহরানের শীর্ষ পর্যায় থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া না গেলেও, অতীতে ইরান বারবার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে যে দেশের সার্বভৌমত্বে আঘাত এলে তার চড়া মূল্য চোকাতে হবে। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে এই হরমুজ প্রণালীতে সামরিক উত্তেজনা অচিরেই একটি বিস্তৃত আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন ও মিত্রবাহিনীর সকল ঘাঁটিতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

হরমুজ প্রণালীতে সামরিক উত্তেজনা

ইরানি রাডারে মার্কিন হামলা, আইআরজিসির পাল্টা মিসাইল

সর্বশেষ আপডেট ১১:০৩:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬

পারস্য উপসাগরের কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালীর নিকটবর্তী এলাকায় ইরানের একাধিক রাডার স্থাপনায় আকস্মিক বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এই অভিযানকে একটি ‘প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ’ বলে দাবি করা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার (২ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে জানানো হয়, হরমুজ প্রণালী এলাকায় সাম্প্রতিক নিরাপত্তা হুমকি এবং ইরানি সামরিক তৎপরতার জবাবেই মূলত এই হামলা পরিচালিত হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, এই হামলার মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের রাডার ও নজরদারি সক্ষমতা সম্পূর্ণ দুর্বল করা, যাতে ওই অঞ্চলে মার্কিন ও মিত্রবাহিনীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। তবে এটি কোনো বৃহৎ আক্রমণাত্মক অভিযানের অংশ নয়; বরং সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় একটি সীমিত ও লক্ষ্যভিত্তিক সামরিক পদক্ষেপ।

এদিকে, নিজেদের রাডার স্থাপনায় মার্কিন হামলার তীব্র ও পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী। মার্কিন অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় ইতিমধ্যেই কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে জোরালো হামলা চালিয়েছে তারা। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক বার্তায় জানিয়েছে, তারা ওই অঞ্চলে অবস্থিত ‘শত্রুপক্ষের ঘাঁটিগুলোতে’ সফলভাবে আঘাত হেনেছে এবং এসব লক্ষ্যবস্তুতে অত্যাধুনিক ‘অ্যারোস্পেস মিসাইল’ ব্যবহার করা হয়েছে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, হরমুজ প্রণালীসংলগ্ন ইরানের সিরিক শহর এবং কেশম দ্বীপে মার্কিন সেনাবাহিনীর হামলার জবাব হিসেবেই আইআরজিসি এই পাল্টা অভিযান পরিচালনা করেছে। তবে এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কৌশলগত এই জলপথকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ ও বিরোধ এখন সরাসরি সংঘাতে রূপ নিয়েছে। এই অঞ্চলে যেকোনো ধরণের সংঘাত বৃদ্ধি পেলে তা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সরাসরি মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।

কারণ, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হিসেবে পরিচিত এই রুটটি দিয়েই প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ করা হয়। ওয়াশিংটনের এই বিমান হামলার পর তেহরানের শীর্ষ পর্যায় থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া না গেলেও, অতীতে ইরান বারবার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে যে দেশের সার্বভৌমত্বে আঘাত এলে তার চড়া মূল্য চোকাতে হবে। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে এই হরমুজ প্রণালীতে সামরিক উত্তেজনা অচিরেই একটি বিস্তৃত আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন ও মিত্রবাহিনীর সকল ঘাঁটিতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছে।