ঢাকা ০৮:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আসছে তেলের বড় চালান, বাজারে স্বস্তি

কে এম জাহেদ, নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০১:০৫:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
  • / 377

বর্তমান সরকারের নানা পদক্ষেপের পরও রাজধানীসহ সারাদেশের পেট্রোল পাম্পে তেলের ঘাটতি চলছে। বেশিরভাগ পাম্পে তেল মিলছে না। কোথাও পাম্প বন্ধ, কোথাও সীমিত পরিমাণে বিক্রি হচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও অনেকেই ফিরছেন খালি হাতে। বিরাজমান অস্থিরতা ও মজুত সংকট কাটাতে বড় ধরনের স্বস্তির খবর দিয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। এই মাসেই ডিজেল ও অপরিশোধিত তেলের বেশ কয়েকটি বড় চালান দেশে পৌঁছানোর নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সরবরাহ ব্যবস্থায় যে সাময়িক টানাপোড়েন তৈরি হয়, নতুন উৎস থেকে তেল আমদানি এবং কূটনৈতিক তৎপরতায় তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হচ্ছে।

বিপিসির তথ্যমতে, শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ৬০ হাজার টন ডিজেল নিয়ে দুটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছাবে। এছাড়া পুরো এপ্রিল মাসজুড়ে ধাপে ধাপে আরও কয়েক লাখ টন জ্বালানি তেল আসার শিডিউল চূড়ান্ত হয়েছে। শুধু ডিজেল নয়, অকটেন ও পেট্রোলের মজুত নিয়েও এই মুহূর্তে কোনো দুশ্চিন্তা নেই বলে জানিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। বেসরকারি শোধনাগার এবং আমদানিকৃত অকটেন দিয়ে বর্তমান চাহিদা পূরণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ঘাটতি মেটাতে কিছু পরিমাণ অকটেন পেট্রোলে রূপান্তরের পরিকল্পনাও রাখা হয়েছে।

জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালিতে সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সফল কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।

ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, বাংলাদেশের জ্বালানিবাহী ছয়টি জাহাজকে হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর ফলে লিকুইফাইড ন্যাচারাল গ্যাস (এলএনজি) ও জ্বালানি তেলবাহী জাহাজগুলোর বাংলাদেশে আসার পথ সুগম হয়েছে।

জ্বালানি বিভাগ গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, এ অ্যান্ড এ এনার্জি অয়েল অ্যান্ড গ্যাস এলএলসি থেকে ২ লাখ টন ডিজেল, পেট্রোগ্যাস ইন্টারন্যাশনাল থেকে ১ লাখ টন ডিজেল কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিপরিষদ কমিটি। এক্সন মোবিল কাজাখস্তান ইনকরপোরেটেড (ইএমকেআই) থেকে এক লাখ টন ডিজেল ও ইন্দোনেশিয়ার পিটি বুমি সিয়াক পুসাকো জাপিন নামের কোম্পানি থেকে ৬০ হাজার টন ডিজেল কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া ‘আবীর ট্রেড অ্যান্ড গ্লোবাল মার্কেটসের’ কাছ থেকে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল কেনার প্রস্তাব অনুমোদন হয়েছে। এগুলো সবই নতুন উৎস।

বিপিসি জানায়, এপ্রিলে পেট্রোল ও অকটেন নিয়ে দুশ্চিন্তা নেই। এ মাসে অকটেনের চাহিদা ৩৭ হাজার টন। এর মধ্যে দেশের বেসরকারি শোধনাগার থেকে ৩০ হাজার টন অকটেন আসার কথা। এ ছাড়া ৫০ হাজার টন আমদানি হচ্ছে এ মাসেই। ৬ এপ্রিল ২৫ হাজার টন নিয়ে সিঙ্গাপুর থেকে একটি জাহাজ আসার কথা। এপ্রিলে পেট্রোলের চাহিদা ৪৪ হাজার টন। এর মধ্যে স্থানীয় উৎস থেকে ৩৫ হাজার টন আসার কথা রয়েছে। বাকি ঘাটতি মেটাতে কিছু অকটেন পেট্রোলে রূপান্তর করা হবে।

সম্প্রতি সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ও যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী জানান, এই মুহূর্তে মাসভিত্তিক চাহিদা পূরণেই গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

তিনি জানান, গত বছরের এপ্রিলে দেশে যে পরিমাণ তেল সরবরাহ হয়েছিল এই বছরের এপ্রিলেও একই পরিমাণ জ্বালানি তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।

জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই বলে দাবি করেছে যুগ্মসচিব। তিনি বলেছেন, ‘ডিজেলে কোনো সংকট নেই, বরং পাচারের শঙ্কা থাকতে পারে, যা সরকার বিবেচনায় রেখেছে।’

তেলের মজুদ কত?

বাংলাদেশে এই মুহূর্তে জ্বালানি তেলের মজুদ কত? কতদিনের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব? এই প্রশ্নগুলো এখন অনেক বেশি আলোচনায়।

বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৩১শে মার্চ পর্যন্ত দেশে ডিজেলের মজুদ রয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার ৯৩৯ মেট্রিক টন, ৭ হাজার ৯৪০ মেট্রিক টন অকটেন, ১১ হাজার ৪৩১ মেট্রিক টন পেট্রোল এবং ৪৪ হাজার ৬০৯ মেট্রিক টন জেট ফুয়েল মজুদ রয়েছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে ডিজেলের গড় নিয়মিত চাহিদা ১২ হাজার মেট্রিক টনের মতো। অর্থাৎ মজুদ থাকা ডিজেলে প্রায় ১১ দিনের মতো চলবে। তার মানে এই নয় যে, জ্বালানি তেলের মজুদ ফুরিয়ে শূন্য হয়ে যাবে। এই সময়ে নতুন করে আমদানি করা জ্বালানি তেলের চালান দেশে পৌঁছালে আবারও এই মজুত বাড়বে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আসছে তেলের বড় চালান, বাজারে স্বস্তি

সর্বশেষ আপডেট ০১:০৫:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

বর্তমান সরকারের নানা পদক্ষেপের পরও রাজধানীসহ সারাদেশের পেট্রোল পাম্পে তেলের ঘাটতি চলছে। বেশিরভাগ পাম্পে তেল মিলছে না। কোথাও পাম্প বন্ধ, কোথাও সীমিত পরিমাণে বিক্রি হচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও অনেকেই ফিরছেন খালি হাতে। বিরাজমান অস্থিরতা ও মজুত সংকট কাটাতে বড় ধরনের স্বস্তির খবর দিয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। এই মাসেই ডিজেল ও অপরিশোধিত তেলের বেশ কয়েকটি বড় চালান দেশে পৌঁছানোর নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সরবরাহ ব্যবস্থায় যে সাময়িক টানাপোড়েন তৈরি হয়, নতুন উৎস থেকে তেল আমদানি এবং কূটনৈতিক তৎপরতায় তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হচ্ছে।

বিপিসির তথ্যমতে, শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ৬০ হাজার টন ডিজেল নিয়ে দুটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছাবে। এছাড়া পুরো এপ্রিল মাসজুড়ে ধাপে ধাপে আরও কয়েক লাখ টন জ্বালানি তেল আসার শিডিউল চূড়ান্ত হয়েছে। শুধু ডিজেল নয়, অকটেন ও পেট্রোলের মজুত নিয়েও এই মুহূর্তে কোনো দুশ্চিন্তা নেই বলে জানিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। বেসরকারি শোধনাগার এবং আমদানিকৃত অকটেন দিয়ে বর্তমান চাহিদা পূরণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ঘাটতি মেটাতে কিছু পরিমাণ অকটেন পেট্রোলে রূপান্তরের পরিকল্পনাও রাখা হয়েছে।

জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালিতে সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সফল কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।

ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, বাংলাদেশের জ্বালানিবাহী ছয়টি জাহাজকে হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর ফলে লিকুইফাইড ন্যাচারাল গ্যাস (এলএনজি) ও জ্বালানি তেলবাহী জাহাজগুলোর বাংলাদেশে আসার পথ সুগম হয়েছে।

জ্বালানি বিভাগ গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, এ অ্যান্ড এ এনার্জি অয়েল অ্যান্ড গ্যাস এলএলসি থেকে ২ লাখ টন ডিজেল, পেট্রোগ্যাস ইন্টারন্যাশনাল থেকে ১ লাখ টন ডিজেল কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিপরিষদ কমিটি। এক্সন মোবিল কাজাখস্তান ইনকরপোরেটেড (ইএমকেআই) থেকে এক লাখ টন ডিজেল ও ইন্দোনেশিয়ার পিটি বুমি সিয়াক পুসাকো জাপিন নামের কোম্পানি থেকে ৬০ হাজার টন ডিজেল কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া ‘আবীর ট্রেড অ্যান্ড গ্লোবাল মার্কেটসের’ কাছ থেকে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল কেনার প্রস্তাব অনুমোদন হয়েছে। এগুলো সবই নতুন উৎস।

বিপিসি জানায়, এপ্রিলে পেট্রোল ও অকটেন নিয়ে দুশ্চিন্তা নেই। এ মাসে অকটেনের চাহিদা ৩৭ হাজার টন। এর মধ্যে দেশের বেসরকারি শোধনাগার থেকে ৩০ হাজার টন অকটেন আসার কথা। এ ছাড়া ৫০ হাজার টন আমদানি হচ্ছে এ মাসেই। ৬ এপ্রিল ২৫ হাজার টন নিয়ে সিঙ্গাপুর থেকে একটি জাহাজ আসার কথা। এপ্রিলে পেট্রোলের চাহিদা ৪৪ হাজার টন। এর মধ্যে স্থানীয় উৎস থেকে ৩৫ হাজার টন আসার কথা রয়েছে। বাকি ঘাটতি মেটাতে কিছু অকটেন পেট্রোলে রূপান্তর করা হবে।

সম্প্রতি সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ও যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী জানান, এই মুহূর্তে মাসভিত্তিক চাহিদা পূরণেই গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

তিনি জানান, গত বছরের এপ্রিলে দেশে যে পরিমাণ তেল সরবরাহ হয়েছিল এই বছরের এপ্রিলেও একই পরিমাণ জ্বালানি তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।

জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই বলে দাবি করেছে যুগ্মসচিব। তিনি বলেছেন, ‘ডিজেলে কোনো সংকট নেই, বরং পাচারের শঙ্কা থাকতে পারে, যা সরকার বিবেচনায় রেখেছে।’

তেলের মজুদ কত?

বাংলাদেশে এই মুহূর্তে জ্বালানি তেলের মজুদ কত? কতদিনের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব? এই প্রশ্নগুলো এখন অনেক বেশি আলোচনায়।

বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৩১শে মার্চ পর্যন্ত দেশে ডিজেলের মজুদ রয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার ৯৩৯ মেট্রিক টন, ৭ হাজার ৯৪০ মেট্রিক টন অকটেন, ১১ হাজার ৪৩১ মেট্রিক টন পেট্রোল এবং ৪৪ হাজার ৬০৯ মেট্রিক টন জেট ফুয়েল মজুদ রয়েছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে ডিজেলের গড় নিয়মিত চাহিদা ১২ হাজার মেট্রিক টনের মতো। অর্থাৎ মজুদ থাকা ডিজেলে প্রায় ১১ দিনের মতো চলবে। তার মানে এই নয় যে, জ্বালানি তেলের মজুদ ফুরিয়ে শূন্য হয়ে যাবে। এই সময়ে নতুন করে আমদানি করা জ্বালানি তেলের চালান দেশে পৌঁছালে আবারও এই মজুত বাড়বে।