আমানত ফেরত না দিয়েও ২,১২৫ কোটি ঋণ বিতরণ
- সর্বশেষ আপডেট ০৮:৪২:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 67
বিপুল খেলাপি ঋণ, আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে না পারা এবং তারল্য সংকট কাটিয়ে উঠতে ব্যর্থতার কারণে শরীয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করার উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্যেও ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।
গত বছরের ৩০ নভেম্বর এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংককে একীভূত করতে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ নামে নতুন একটি ব্যাংকের লাইসেন্স দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।
তবে একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়ায় থাকা এসব ব্যাংকের আমানতকারীরা এখনো চাহিদা অনুযায়ী নিজেদের জমা অর্থ তুলতে পারছেন না। এর মধ্যেই চলতি বছরের ২ জুন পর্যন্ত পাঁচ ব্যাংক থেকে মোট ২ হাজার ১২৫ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ঋণ বা বিনিয়োগ বিতরণ করা হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, বিতরণ করা ঋণের মধ্যে ৩৫৬ কোটি ৫৩ লাখ টাকা আমানতকারীরা তাঁদের জমা অর্থের বিপরীতে ঋণ হিসেবে পেয়েছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, সবচেয়ে বেশি ঋণ বিতরণ করেছে এক্সিম ব্যাংক। একীভূত প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকা অবস্থায় ২ জুন পর্যন্ত ব্যাংকটি ১ হাজার ১৪১ কোটি ২৯ লাখ টাকা ঋণ বিতরণ করেছে। এর মধ্যে আমানতকারীরা নিজেদের জমার বিপরীতে পেয়েছেন ১৫০ কোটি টাকা।
দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৭৪৪ কোটি ২৭ লাখ টাকা ঋণ বিতরণ করেছে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক। এর মধ্যে আমানতকারীদের দেওয়া হয়েছে ৫৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক ১২৪ কোটি ৫৮ লাখ, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ৯২ কোটি এবং ইউনিয়ন ব্যাংক ২৩ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করেছে।
সংকটের সময়ে পাঁচ ব্যাংকের এভাবে ঋণ বিতরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ব্যাংক খাতের বিশ্লেষকেরা।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) সাবেক মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী বলেন, এ সময়ে পাঁচ ব্যাংকের ঋণ বিতরণকে তিনি ইতিবাচকভাবে দেখছেন না। আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে না পারা এবং তারল্য ও মূলধন সংকটের মধ্যে কীভাবে ঋণ বিতরণের অনুমোদন দেওয়া হলো, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি। তাঁর মতে, আমানতকারীদের অর্থ ফেরত না দিয়ে ঋণ বিতরণ অনৈতিক ব্যাংকিংয়ের উদাহরণ হতে পারে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের বক্তব্য, স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম সচল রাখতেই এসব ব্যাংককে ঋণ বা বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, একীভূত পাঁচ ব্যাংকের মধ্যে ভালো কিছু গ্রাহকও রয়েছে। তাঁদের ধরে রাখতে পারলে ব্যাংকগুলো ভবিষ্যতে ভালো ব্যবসা করতে পারবে। বিনিয়োগের মাধ্যমে আয় ও মুনাফা বাড়িয়ে অধিকসংখ্যক আমানতকারীর স্বার্থ রক্ষা করাই এর অন্যতম উদ্দেশ্য।
তিনি আরও বলেন, ব্যাংক হিসেবে টিকে থাকতে হলে শুধু আমানতকারীদের অর্থ ফেরতের বিষয়টি দেখলেই হবে না, বিনিয়োগ কার্যক্রমও চালু রাখতে হবে। তা না হলে ব্যাংকগুলোর অস্তিত্বই সংকটে পড়তে পারে।
































