ঢাকা ০২:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬, ২৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আন্দোলনে নারীর অংশগ্রহণ বাড়লেও, মনোনয়ন রাজনীতিতে এখনো পিছিয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৭:৫২:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬
  • / 219

ছবি-বাংলা অ্যাফেয়ার্স

দেশের একটি বড় রাজনৈতিক দল বিএনপি প্রায় ২০ হাজার নারী প্রার্থীর মনোনয়ন আবেদন পেলেও ১০টির বেশি মনোনয়ন দেয়নি। আর জামায়াতে ইসলামী কোনো নারীকে মনোনয়নই দেয়নি।

বর্তমান বিশ্বে আদৌ কি সার্বভৌমত্ব বলে কোনো ধারণা আছে? কারণ, দুটি দেশের মধ্যে চুক্তি হলে উভয় পক্ষকেই আপস করতে হয়। জনসংখ্যার দিক থেকে দেশে নারীর সংখ্যা ৫০ শতাংশেরও বেশি হলেও তারা সবসময়ই প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্য ও নিপীড়নের মুখে পড়েন। বিভিন্ন আন্দোলন ও অভ্যুত্থানে নারীদের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ থাকা সত্ত্বেও পরবর্তীতে তারা প্রান্তিক হয়ে পড়েন।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) এবং ফ্রিডরিখ এবার্ট স্টিফটুং (এফইএস)-এর যৌথ উদ্যোগে “জাতীয়তাবাদ, রাষ্ট্র ও নাগরিক সমাজ: রাষ্ট্র-সমাজ সম্পর্কের ধারণা” শীর্ষক একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ঢাকার একটি হোটেলে শুরু হওয়া এই কর্মশালায় তরুণ নারী রাজনীতিবিদদের মধ্যে মতাদর্শগত আলোচনা, ভাবনা বিনিময় এবং অংশগ্রহণমূলক কার্যক্রমকে উৎসাহিত করা হয়েছে। সিজিএস ও এফইএস-এর উদ্যোগে দুই দিনব্যপি এই কর্মশালাটির আজ ছিলো প্রথম দিন।

এই কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের তরুণ নারী রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে মতাদর্শগত সংলাপকে উৎসাহিত করা, যাতে তারা অন্বেষণ করতে পারেন কীভাবে জাতি, রাষ্ট্র এবং নাগরিক সমাজের চেতনা আমাদের রাজনৈতিক জীবনকে প্রভাবিত করে।

একই সঙ্গে এটি গণতান্ত্রিক সহাবস্থানের চর্চাকে শক্তিশালী করা এবং সুশাসন, রাষ্ট্র ও রাষ্ট্র-সমাজ সম্পর্কের মূল ভাবনাকে সুসংহত করার লক্ষ্যেও কাজ করছে।

কর্মশালার উদ্বোধন পর্বে বক্তব্য দেন সিজিএস-এর সভাপতি জিল্লুর রহমান, নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করিম আব্বাসী এবং এফইএস-এর রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. ফেলিক্স গ্রেডেস।

কর্মশালাটি যৌথভাবে পরিচালনা করছেন জার্মানির লাইপজিগ বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইপজিগ রিসার্চ সেন্টার গ্লোবাল ডাইনামিক্স-এর পোস্টডক্টরাল ফেলো ড. জুলিয়ান বেনেডিক্ট কুটিগ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. লাইলুফার ইয়াসমিন।

উদ্বোধনী বক্তব্যে সিজিএস সভাপতি জিল্লুর রহমান বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে আমরা অনেক কথাবার্তা শুনি, কিন্তু বাস্তবে কোনো ক্ষেত্রেই প্রকৃত ক্ষমতায়ন ঘটেনি।

তিনি অংশগ্রহণকারীদের প্রশ্ন করেন, “আপনাদের মধ্যে কতজন মনে করেন, আপনারা দীর্ঘদিন রাজনীতিতে টিকে থাকতে পারবেন?” এর জবাবে অর্ধেকেরও কম অংশগ্রহণকারী হাত তোলেন।

অংশগ্রহণকারীরা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে তাদের চ্যালেঞ্জ বেড়েছে। তারা পারিবারিক ও সামাজিক বিধিনিষেধ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হয়রানির শিকার হচ্ছেন, যা তাদের সামাজিক অংশগ্রহণ ও মতপ্রকাশে বাধা সৃষ্টি করছে।

সিজিএস-এর নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করিম আব্বাসী বলেন, আধুনিক যুগে জাতীয়তাবাদ একটি তুলনামূলক নতুন ধারণা। তিনি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে জাতীয়তাবাদের বিবর্তন তুলে ধরেন এবং ভাষা, ভৌগোলিক অবস্থান ও সংস্কৃতি কীভাবে একটি জাতির জাতীয়তাবাদের ভিত্তি গঠন করে তা ব্যাখ্যা করেন।

তিনি উল্লেখ করেন কীভাবে কল্পিত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যও একটি শক্তিশালী জাতীয়তাবাদ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে। তাঁর বিশ্লেষণে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের জাতীয়তাবাদের বিকাশের বিষয়টিও উঠে আসে।

এফইএস-এর রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. ফেলিক্স গ্রেডেস তাঁর বক্তব্যে প্রতিষ্ঠানের রাজনৈতিক ভিত্তি, কাজের ক্ষেত্র ও দর্শন তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে জলবায়ু পরিবর্তন, শ্রমিক ইউনিয়ন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ইস্যুতে কাজ করে আসছে।

অধ্যাপক ড. লাইলুফার ইয়াসমিন তরুণ রাজনীতিবিদদের জন্য সঠিকভাবে যোগাযোগমূলক ইংরেজি শেখার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁর মতে, এটি তাদের ধারণা প্রকাশের দক্ষতা বাড়াবে এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল সমসাময়িক বিশ্বের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে সহায়তা করবে।

ড. জুলিয়ান বেনেডিক্ট কুটিগ কর্মশালার দিনের কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা দেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে আসা অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের পরিচয় দেন এবং কেন তারা রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছেন ও এই কর্মশালা থেকে তাদের প্রত্যাশা কী—তা তুলে ধরেন। অনেক নারী জানান, তারা সাম্প্রতিক অভ্যুত্থানের পর রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছেন।

অংশগ্রহণকারীদের বাংলাদেশকে নিয়ে তাদের অনুভূতি চিত্রাঙ্কনের মাধ্যমে প্রকাশ করতে বলা হয়। ড. জুলিয়ান জাতি ও জাতীয়তাবাদের পার্থক্য নিয়ে আলোচনা করেন এবং বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে বিভিন্ন খ্যাতনামা গবেষকের ধারণা তুলে ধরেন।

তাঁর এই লেকচারে অংশগ্রহণকারীরা গভীর আগ্রহ নিয়ে অংশ নেন এবং নিজেদের মতামত ও প্রশ্নের মাধ্যমে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আন্দোলনে নারীর অংশগ্রহণ বাড়লেও, মনোনয়ন রাজনীতিতে এখনো পিছিয়ে

সর্বশেষ আপডেট ০৭:৫২:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

দেশের একটি বড় রাজনৈতিক দল বিএনপি প্রায় ২০ হাজার নারী প্রার্থীর মনোনয়ন আবেদন পেলেও ১০টির বেশি মনোনয়ন দেয়নি। আর জামায়াতে ইসলামী কোনো নারীকে মনোনয়নই দেয়নি।

বর্তমান বিশ্বে আদৌ কি সার্বভৌমত্ব বলে কোনো ধারণা আছে? কারণ, দুটি দেশের মধ্যে চুক্তি হলে উভয় পক্ষকেই আপস করতে হয়। জনসংখ্যার দিক থেকে দেশে নারীর সংখ্যা ৫০ শতাংশেরও বেশি হলেও তারা সবসময়ই প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্য ও নিপীড়নের মুখে পড়েন। বিভিন্ন আন্দোলন ও অভ্যুত্থানে নারীদের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ থাকা সত্ত্বেও পরবর্তীতে তারা প্রান্তিক হয়ে পড়েন।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) এবং ফ্রিডরিখ এবার্ট স্টিফটুং (এফইএস)-এর যৌথ উদ্যোগে “জাতীয়তাবাদ, রাষ্ট্র ও নাগরিক সমাজ: রাষ্ট্র-সমাজ সম্পর্কের ধারণা” শীর্ষক একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ঢাকার একটি হোটেলে শুরু হওয়া এই কর্মশালায় তরুণ নারী রাজনীতিবিদদের মধ্যে মতাদর্শগত আলোচনা, ভাবনা বিনিময় এবং অংশগ্রহণমূলক কার্যক্রমকে উৎসাহিত করা হয়েছে। সিজিএস ও এফইএস-এর উদ্যোগে দুই দিনব্যপি এই কর্মশালাটির আজ ছিলো প্রথম দিন।

এই কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের তরুণ নারী রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে মতাদর্শগত সংলাপকে উৎসাহিত করা, যাতে তারা অন্বেষণ করতে পারেন কীভাবে জাতি, রাষ্ট্র এবং নাগরিক সমাজের চেতনা আমাদের রাজনৈতিক জীবনকে প্রভাবিত করে।

একই সঙ্গে এটি গণতান্ত্রিক সহাবস্থানের চর্চাকে শক্তিশালী করা এবং সুশাসন, রাষ্ট্র ও রাষ্ট্র-সমাজ সম্পর্কের মূল ভাবনাকে সুসংহত করার লক্ষ্যেও কাজ করছে।

কর্মশালার উদ্বোধন পর্বে বক্তব্য দেন সিজিএস-এর সভাপতি জিল্লুর রহমান, নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করিম আব্বাসী এবং এফইএস-এর রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. ফেলিক্স গ্রেডেস।

কর্মশালাটি যৌথভাবে পরিচালনা করছেন জার্মানির লাইপজিগ বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইপজিগ রিসার্চ সেন্টার গ্লোবাল ডাইনামিক্স-এর পোস্টডক্টরাল ফেলো ড. জুলিয়ান বেনেডিক্ট কুটিগ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. লাইলুফার ইয়াসমিন।

উদ্বোধনী বক্তব্যে সিজিএস সভাপতি জিল্লুর রহমান বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে আমরা অনেক কথাবার্তা শুনি, কিন্তু বাস্তবে কোনো ক্ষেত্রেই প্রকৃত ক্ষমতায়ন ঘটেনি।

তিনি অংশগ্রহণকারীদের প্রশ্ন করেন, “আপনাদের মধ্যে কতজন মনে করেন, আপনারা দীর্ঘদিন রাজনীতিতে টিকে থাকতে পারবেন?” এর জবাবে অর্ধেকেরও কম অংশগ্রহণকারী হাত তোলেন।

অংশগ্রহণকারীরা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে তাদের চ্যালেঞ্জ বেড়েছে। তারা পারিবারিক ও সামাজিক বিধিনিষেধ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হয়রানির শিকার হচ্ছেন, যা তাদের সামাজিক অংশগ্রহণ ও মতপ্রকাশে বাধা সৃষ্টি করছে।

সিজিএস-এর নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করিম আব্বাসী বলেন, আধুনিক যুগে জাতীয়তাবাদ একটি তুলনামূলক নতুন ধারণা। তিনি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে জাতীয়তাবাদের বিবর্তন তুলে ধরেন এবং ভাষা, ভৌগোলিক অবস্থান ও সংস্কৃতি কীভাবে একটি জাতির জাতীয়তাবাদের ভিত্তি গঠন করে তা ব্যাখ্যা করেন।

তিনি উল্লেখ করেন কীভাবে কল্পিত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যও একটি শক্তিশালী জাতীয়তাবাদ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে। তাঁর বিশ্লেষণে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের জাতীয়তাবাদের বিকাশের বিষয়টিও উঠে আসে।

এফইএস-এর রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. ফেলিক্স গ্রেডেস তাঁর বক্তব্যে প্রতিষ্ঠানের রাজনৈতিক ভিত্তি, কাজের ক্ষেত্র ও দর্শন তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে জলবায়ু পরিবর্তন, শ্রমিক ইউনিয়ন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ইস্যুতে কাজ করে আসছে।

অধ্যাপক ড. লাইলুফার ইয়াসমিন তরুণ রাজনীতিবিদদের জন্য সঠিকভাবে যোগাযোগমূলক ইংরেজি শেখার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁর মতে, এটি তাদের ধারণা প্রকাশের দক্ষতা বাড়াবে এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল সমসাময়িক বিশ্বের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে সহায়তা করবে।

ড. জুলিয়ান বেনেডিক্ট কুটিগ কর্মশালার দিনের কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা দেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে আসা অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের পরিচয় দেন এবং কেন তারা রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছেন ও এই কর্মশালা থেকে তাদের প্রত্যাশা কী—তা তুলে ধরেন। অনেক নারী জানান, তারা সাম্প্রতিক অভ্যুত্থানের পর রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছেন।

অংশগ্রহণকারীদের বাংলাদেশকে নিয়ে তাদের অনুভূতি চিত্রাঙ্কনের মাধ্যমে প্রকাশ করতে বলা হয়। ড. জুলিয়ান জাতি ও জাতীয়তাবাদের পার্থক্য নিয়ে আলোচনা করেন এবং বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে বিভিন্ন খ্যাতনামা গবেষকের ধারণা তুলে ধরেন।

তাঁর এই লেকচারে অংশগ্রহণকারীরা গভীর আগ্রহ নিয়ে অংশ নেন এবং নিজেদের মতামত ও প্রশ্নের মাধ্যমে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকেন।