হাইকোর্টের রায়
আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে হরতাল-ধর্মঘট অবৈধ
- সর্বশেষ আপডেট ০৪:২১:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 63
আদালতের রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের হরতাল বা ধর্মঘট কর্মসূচি ডাকাকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এ ধরনের কর্মসূচি দেওয়া হলে বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক সংগঠনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
আগে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে রোববার এ রায় দেন বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকার ও বিচারপতি ফয়সল হাসান আরিফের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী সঞ্জয় মন্ডল ও রিপন বাড়ৈ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আহসান হাবীব। বিআরটিসির পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আসিবুল হক এবং বিআরটিএর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. রাফিউল ইসলাম।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১১ সালের আগস্টে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় ডিলাক্স পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে একটি গাড়ির সংঘর্ষে চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ, সাংবাদিক মিশুক মুনীরসহ পাঁচজন নিহত হন। ওই ঘটনায় বাসচালকের বিরুদ্ধে মামলা হলে ২০১৭ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত তাকে সাজা দেন।
ওই সাজার প্রতিবাদে বাস মালিকরা পরিবহন ধর্মঘট ও হরতাল ডাকেন। বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে জনস্বার্থে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ হাইকোর্টে রিট করে।
রিটের শুনানি শেষে ২০১৭ সালের ১ মার্চ আদালত রুল জারি করেন। আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ধর্মঘট বা হরতাল আহ্বান কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, রুলে তা জানতে চাওয়া হয়।
রোববার রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে আদালত তা যথাযথ ঘোষণা করে রায় দেন। আইনজীবী মনজিল মোরসেদ সাংবাদিকদের বলেন, আদালতের রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে ধর্মঘট বা হরতাল ডাকলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র সচিব, বিআরটিএ ও বিআরটিসিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
রায়ে আদালত বলেন, সংবিধানের ১১২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আদালতের রায় সবার জন্য বাধ্যতামূলক। আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ রয়েছে। তবে রায়ের প্রতিবাদে হরতাল বা ধর্মঘট আহ্বান করা অবৈধ ও সংবিধানবিরোধী।






























