ঢাকা ০৫:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
চার মন্ত্রীর ছায়ায় ১৫ বছরের টেন্ডার সাম্রাজ্য

আউটসোর্সিংয়ে দুলালের দুলালিপনা!

বিশেষ প্রতিনিধি
  • সর্বশেষ আপডেট ০১:০৩:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
  • / 341

আউটসোর্সিংয়ে দুলালের দুলালিপনা!

টেন্ডারে প্রতিযোগিতা ছিল, ছিল সর্বনিম্ন দরদাতাও। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কাজ গেল অন্য প্রতিষ্ঠানের হাতে! কোথাও আবার দরপত্র বাতিল করে নতুন শর্তে আয়োজন, এরপর কাঙ্ক্ষিত প্রতিষ্ঠানের কার্যাদেশ- এমন নানা অভিযোগ ঘিরে আলোচনায় পিমা অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. দেলোয়ার হোসেন দুলাল। একাধারে তিনি ​’বাংলাদেশ আউটসোর্সিং ম্যানপাওয়ার সাপ্লায়ার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন’-এর সিনিয়র সহ-সভাপতিও।

এই ব্যাক্তির বিরুদ্ধে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে জনবল সরবরাহের ব্যবসায় বিগত ১৫ বছর ধরে একচ্ছত্র আধিপত্য ধরে রাখার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে কয়েকজন প্রভাবশালী মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর রাজনৈতিক বলয় ব্যবহার করে পিমা একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের জনবল সরবরাহের কাজ পেত। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও বদলে গেছে কেবল পরিচয়ের ভাষা; ঠিকাদারি সাম্রাজ্যে প্রভাব রয়ে গেছে আগের মতোই।

পিমার বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ টেন্ডার কারসাজি নিয়ে। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রে অন্য প্রতিষ্ঠান সর্বনিম্ন দরদাতা হলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াটি বাতিল করিয়ে দেওয়া হতো। পরে নতুন শর্ত যুক্ত করে আবার দরপত্র আহ্বান করা এবং নিজেদের অনুকূলে ফলাফল আনার চেষ্টা করা হতো।

এমনকি নিয়ম অনুযায়ী যোগ্যতা না থাকা বা সর্বনিম্ন দরদাতা না হওয়ার পরও রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে কার্যাদেশ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

অনুসন্ধানে সাবেক চার আওয়ামী লীগ নেতা ও মন্ত্রীর নাম সামনে এসেছে। এরা হলেন- সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শাহজাহান মিয়া, সাবেক পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক এবং সাবেক ধর্মমন্ত্রী ফরিদুল হক খান দুলাল।

অভিযোগকারীদের দাবি, তাদের রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে পিমা বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন কাজ ধরে রাখে।

পিমার দীর্ঘদিন কাজ ধরে রাখার কৌশল নিয়ে একটি সংরক্ষিত অডিও ফোনালাপের কথাও সামনে এসেছে। অভিযোগকারীদের দেওয়া ওই অডিওতে দেলোয়ার হোসেন দুলালকে নিজের প্রতিষ্ঠানকে ‘স্বনামধন্য’ উল্লেখ করে বলতে শোনা যায়- একবার কোনো প্রতিষ্ঠানে কাজ শুরু করলে সেখান থেকে তাকে বের করা কঠিন।

অডিওতে ২০১১ সালে হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টে কাজ শুরু করে দীর্ঘ সময় কাজ ধরে রাখার কথাও উঠে আসে বলে দাবি করা হয়েছে।

আরও অভিযোগ করা হয়েছে, মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের একটি টেন্ডার অন্য একটি গ্রুপ নেওয়ার চেষ্টা করলেও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত পিমাকে কাজ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

একই ফোনালাপে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হকের আনুকূল্যে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজে কাজ পাওয়ার কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

পিমা অ্যাসোসিয়েটসের বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকাও দীর্ঘ। সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ, শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মাতুয়াইল মা ও শিশু স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট, নারায়ণগঞ্জ ও পঞ্চগড় সিভিল সার্জন কার্যালয়- স্বাস্থ্য খাতের এসব প্রতিষ্ঠানে জনবল সরবরাহের কাজ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ উঠেছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

এ ছাড়া ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীন মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম, পুরোহিত-সেবাইতদের দক্ষতা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্প, বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে-সংক্রান্ত প্রকল্প, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়, বস্ত্র অধিদপ্তর, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি, সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগ, বিসিআইসি, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, পরমাণু শক্তি কমিশন ও বিএডিসিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করার তথ্য পাওয়া যায়।

অভিযোগকারীদের দাবি, প্রায় অর্ধশত সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের আউটসোর্সিং কার্যক্রমে দীর্ঘদিন ধরে পিমার উপস্থিতি ছিল।

পিমার বিরুদ্ধে শ্রমিক শোষণের অভিযোগও কম নয়। ২০১৮ সালে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজে ৪৬ জন আউটসোর্সিং কর্মী নিয়োগের ঘটনায় অভিযোগ ওঠে, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কর্মীদের নির্ধারিত বেতন ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে দেওয়ার কথা থাকলেও তা যথাযথভাবে দেওয়া হয়নি।

অভিযোগকারীদের দাবি, নির্ধারিত ১৪ হাজার ৫৫০ টাকার পরিবর্তে কর্মীদের হাতে নগদে দেওয়া হয় মাত্র ৭ হাজার টাকা।

সাম্প্রতিক সময়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আউটসোর্সিং নিয়োগ নিয়েও নতুন অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, ৩৬টি পদে নতুন লোক নিয়োগের ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেন হয়েছে। এতে দীর্ঘ ৮ থেকে ১৬ বছর ধরে কাজ করা ১৬ জন অভিজ্ঞ কর্মী চাকরি হারিয়েছেন বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।

অভিযোগের বিষয়টি এতটাই গুরুত্ব পেয়েছে যে, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত ২৩ জুলাই স্বাস্থ্য বিভাগের প্রশাসন শাখা-১-এর উপসচিব সুজিত দেবনাথ স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে আউটসোর্সিং নিয়োগে অনিয়ম ও অবৈধ লেনদেনের অভিযোগ তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মহাপরিচালককে অনুরোধ করা হয়।

জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট- আইপিএইচে কর্মরত শ্রমিকদের কাছ থেকেও টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, ১২৭ জন কর্মীকে নিয়োগের সময় জনপ্রতি ১ থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছিল। এখন চাকরির মেয়াদ নবায়নের সময় আবার জনপ্রতি ৫ হাজার টাকা করে চাওয়া হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন কর্মী বলেন, টাকা না দিলে চাকরি থাকবে না- এমন ভয় দেখানো হচ্ছে।

ঠিকাদারি অঙ্গনে দেলোয়ার হোসেন দুলালকে অনেকে ‘ম্যানেজ মাস্টার’ নামে অভিহিত করেন বলে দাবি অভিযোগকারীদের।

তাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক যোগাযোগের পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সম্পর্ক, প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানকে চাপে রাখা এবং টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে দীর্ঘদিন নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন তিনি।

বিগত সরকারের সময়ে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ থাকলেও বর্তমানে দেলোয়ার হোসেন দুলাল নিজেকে বিএনপির সমর্থক হিসেবে পরিচয় দেন বলে অভিযোগকারীরা দাবি করছেন। অতীতে বরিশাল জেলা ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার পরিচয়ও তিনি ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে পিমা অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. দেলোয়ার হোসেন দুলালের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Tag :

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

চার মন্ত্রীর ছায়ায় ১৫ বছরের টেন্ডার সাম্রাজ্য

আউটসোর্সিংয়ে দুলালের দুলালিপনা!

সর্বশেষ আপডেট ০১:০৩:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

টেন্ডারে প্রতিযোগিতা ছিল, ছিল সর্বনিম্ন দরদাতাও। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কাজ গেল অন্য প্রতিষ্ঠানের হাতে! কোথাও আবার দরপত্র বাতিল করে নতুন শর্তে আয়োজন, এরপর কাঙ্ক্ষিত প্রতিষ্ঠানের কার্যাদেশ- এমন নানা অভিযোগ ঘিরে আলোচনায় পিমা অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. দেলোয়ার হোসেন দুলাল। একাধারে তিনি ​’বাংলাদেশ আউটসোর্সিং ম্যানপাওয়ার সাপ্লায়ার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন’-এর সিনিয়র সহ-সভাপতিও।

এই ব্যাক্তির বিরুদ্ধে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে জনবল সরবরাহের ব্যবসায় বিগত ১৫ বছর ধরে একচ্ছত্র আধিপত্য ধরে রাখার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে কয়েকজন প্রভাবশালী মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর রাজনৈতিক বলয় ব্যবহার করে পিমা একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের জনবল সরবরাহের কাজ পেত। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও বদলে গেছে কেবল পরিচয়ের ভাষা; ঠিকাদারি সাম্রাজ্যে প্রভাব রয়ে গেছে আগের মতোই।

পিমার বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ টেন্ডার কারসাজি নিয়ে। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রে অন্য প্রতিষ্ঠান সর্বনিম্ন দরদাতা হলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াটি বাতিল করিয়ে দেওয়া হতো। পরে নতুন শর্ত যুক্ত করে আবার দরপত্র আহ্বান করা এবং নিজেদের অনুকূলে ফলাফল আনার চেষ্টা করা হতো।

এমনকি নিয়ম অনুযায়ী যোগ্যতা না থাকা বা সর্বনিম্ন দরদাতা না হওয়ার পরও রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে কার্যাদেশ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

অনুসন্ধানে সাবেক চার আওয়ামী লীগ নেতা ও মন্ত্রীর নাম সামনে এসেছে। এরা হলেন- সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শাহজাহান মিয়া, সাবেক পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক এবং সাবেক ধর্মমন্ত্রী ফরিদুল হক খান দুলাল।

অভিযোগকারীদের দাবি, তাদের রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে পিমা বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন কাজ ধরে রাখে।

পিমার দীর্ঘদিন কাজ ধরে রাখার কৌশল নিয়ে একটি সংরক্ষিত অডিও ফোনালাপের কথাও সামনে এসেছে। অভিযোগকারীদের দেওয়া ওই অডিওতে দেলোয়ার হোসেন দুলালকে নিজের প্রতিষ্ঠানকে ‘স্বনামধন্য’ উল্লেখ করে বলতে শোনা যায়- একবার কোনো প্রতিষ্ঠানে কাজ শুরু করলে সেখান থেকে তাকে বের করা কঠিন।

অডিওতে ২০১১ সালে হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টে কাজ শুরু করে দীর্ঘ সময় কাজ ধরে রাখার কথাও উঠে আসে বলে দাবি করা হয়েছে।

আরও অভিযোগ করা হয়েছে, মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের একটি টেন্ডার অন্য একটি গ্রুপ নেওয়ার চেষ্টা করলেও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত পিমাকে কাজ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

একই ফোনালাপে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হকের আনুকূল্যে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজে কাজ পাওয়ার কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

পিমা অ্যাসোসিয়েটসের বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকাও দীর্ঘ। সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ, শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মাতুয়াইল মা ও শিশু স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট, নারায়ণগঞ্জ ও পঞ্চগড় সিভিল সার্জন কার্যালয়- স্বাস্থ্য খাতের এসব প্রতিষ্ঠানে জনবল সরবরাহের কাজ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ উঠেছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

এ ছাড়া ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীন মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম, পুরোহিত-সেবাইতদের দক্ষতা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্প, বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে-সংক্রান্ত প্রকল্প, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়, বস্ত্র অধিদপ্তর, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি, সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগ, বিসিআইসি, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, পরমাণু শক্তি কমিশন ও বিএডিসিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করার তথ্য পাওয়া যায়।

অভিযোগকারীদের দাবি, প্রায় অর্ধশত সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের আউটসোর্সিং কার্যক্রমে দীর্ঘদিন ধরে পিমার উপস্থিতি ছিল।

পিমার বিরুদ্ধে শ্রমিক শোষণের অভিযোগও কম নয়। ২০১৮ সালে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজে ৪৬ জন আউটসোর্সিং কর্মী নিয়োগের ঘটনায় অভিযোগ ওঠে, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কর্মীদের নির্ধারিত বেতন ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে দেওয়ার কথা থাকলেও তা যথাযথভাবে দেওয়া হয়নি।

অভিযোগকারীদের দাবি, নির্ধারিত ১৪ হাজার ৫৫০ টাকার পরিবর্তে কর্মীদের হাতে নগদে দেওয়া হয় মাত্র ৭ হাজার টাকা।

সাম্প্রতিক সময়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আউটসোর্সিং নিয়োগ নিয়েও নতুন অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, ৩৬টি পদে নতুন লোক নিয়োগের ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেন হয়েছে। এতে দীর্ঘ ৮ থেকে ১৬ বছর ধরে কাজ করা ১৬ জন অভিজ্ঞ কর্মী চাকরি হারিয়েছেন বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।

অভিযোগের বিষয়টি এতটাই গুরুত্ব পেয়েছে যে, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত ২৩ জুলাই স্বাস্থ্য বিভাগের প্রশাসন শাখা-১-এর উপসচিব সুজিত দেবনাথ স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে আউটসোর্সিং নিয়োগে অনিয়ম ও অবৈধ লেনদেনের অভিযোগ তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মহাপরিচালককে অনুরোধ করা হয়।

জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট- আইপিএইচে কর্মরত শ্রমিকদের কাছ থেকেও টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, ১২৭ জন কর্মীকে নিয়োগের সময় জনপ্রতি ১ থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছিল। এখন চাকরির মেয়াদ নবায়নের সময় আবার জনপ্রতি ৫ হাজার টাকা করে চাওয়া হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন কর্মী বলেন, টাকা না দিলে চাকরি থাকবে না- এমন ভয় দেখানো হচ্ছে।

ঠিকাদারি অঙ্গনে দেলোয়ার হোসেন দুলালকে অনেকে ‘ম্যানেজ মাস্টার’ নামে অভিহিত করেন বলে দাবি অভিযোগকারীদের।

তাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক যোগাযোগের পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সম্পর্ক, প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানকে চাপে রাখা এবং টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে দীর্ঘদিন নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন তিনি।

বিগত সরকারের সময়ে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ থাকলেও বর্তমানে দেলোয়ার হোসেন দুলাল নিজেকে বিএনপির সমর্থক হিসেবে পরিচয় দেন বলে অভিযোগকারীরা দাবি করছেন। অতীতে বরিশাল জেলা ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার পরিচয়ও তিনি ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে পিমা অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. দেলোয়ার হোসেন দুলালের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।