‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’-তারেক রহমান
- সর্বশেষ আপডেট ১০:৩০:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫
- / 141
দীর্ঘ ১৭ বছর পর লন্ডন থেকে দেশে ফিরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, “আই হ্যাভ আ প্ল্যান।” তবে তিনি তাঁর সেই পরিকল্পনার বিস্তারিত খোলাসা না করলেও স্পষ্ট করে বলেছেন—দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের লক্ষ্যে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হলে প্রত্যেক মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে পূর্বাচলের জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ে সড়কে স্থাপিত গণসংবর্ধনা মঞ্চে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন তারেক রহমান। প্রায় ১৬ মিনিটের বক্তব্যে তিনি দেশের শান্তি, নিরাপত্তা ও ন্যায়পরায়ণ রাষ্ট্রব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা ৩৯ মিনিটে তারেক রহমানকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-২০২ ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা তাকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান।
সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে দুপুর সাড়ে ১২টার খানিক পর বিমানবন্দর থেকে বাসে করে পূর্বাচলের সংবর্ধনা মঞ্চের উদ্দেশে রওনা হন তারেক রহমান। পথে তিন ঘণ্টার বেশি সময় ধরে রাস্তার দুই পাশে অবস্থান নেওয়া নেতা-কর্মীদের হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান তিনি। বিমানবন্দর থেকে প্রায় সাত কিলোমিটার দূরে নির্মিত মঞ্চে পৌঁছান বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে।
সংবর্ধনা মঞ্চে বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন,
“আমরা দেশের শান্তি চাই। মার্টিন লুথার কিং—নাম তো শুনেছেন। তাঁর একটি বিখ্যাত উক্তি আছে—‘আই হ্যাভ আ ড্রিম’। আজ এই বাংলাদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে আমি বলতে চাই—আই হ্যাভ আ প্ল্যান, পিপল অব মাই কান্ট্রি, ফর মাই কান্ট্রি। এই পরিকল্পনা দেশের মানুষের স্বার্থে।”
তিনি আরও বলেন, দেশের উন্নয়ন ও মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গণতান্ত্রিক শক্তির প্রত্যেক মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।
“আপনারা যদি আমাদের পাশে থাকেন, আমাদের সহযোগিতা করেন, ইনশা আল্লাহ আমরা ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’ বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হব,”—বলেন তিনি।
দেশের শান্তিশৃঙ্খলা ও মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তারেক রহমান বলেন,
“আমরা যে ধর্মের মানুষই হই, যে শ্রেণির বা যে রাজনৈতিক দলেরই হই—আমাদের নিশ্চিত করতে হবে, যেকোনো মূল্যে দেশের শান্তিশৃঙ্খলা বজায় থাকবে। শিশু, নারী, পুরুষ—যেকোনো বয়স, পেশা ও ধর্মের মানুষ যেন নিরাপদ থাকে—এই হোক আমাদের চাওয়া।”
তিনি সবাইকে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন,
“আগামী দিনে যারা দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আসবে, তারা যেন নবী করিম (সা.)-এর ন্যায়পরায়ণতার আলোকে দেশ পরিচালনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে।”
বক্তব্য শেষের পর অনুষ্ঠান সমাপ্তির ঘোষণা চলাকালে আবারও মাইকের সামনে এসে তারেক রহমান বলেন,
“মনে রাখবেন—উই হ্যাভ আ প্ল্যান। উই হ্যাভ আ প্ল্যান ফর দ্য পিপল, ফর দ্য কান্ট্রি। ইনশা আল্লাহ, আমরা সেই প্ল্যান বাস্তবায়ন করব।”
সংবর্ধনা মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম), এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
এ ছাড়া দীর্ঘদিনের যুগপৎ আন্দোলনের সঙ্গী রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, জেএসডির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি তানিয়া রব, গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক, এনডিএমের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ, এনপিপির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক অধ্যাপক নুরুল আমিন ব্যাপারীসহ অনেকে।



































